সময় কলকাতা, নিউজ ডেস্ক:-বিবেকানন্দকে আপনারা সবাই জানেন। পৃথিবীরও অনেকে জানেন। তবে একটা তথ্য কি আপনারা জানেন? বিবেকানন্দের মা বীর জননী আখ্যা পেয়ে জনগণের কাছে ভূষিত হয়েছিলেন রীতিমতো আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা পেয়েছিলেন। আপনারা বলতে পারেন এটা আবার কুইজের প্রশ্নের মত বলার কি আছে। সেই তো কবেই কবি বলে গেছেন বীর সন্ন্যাসী বিবেকের বাণী ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং বিবেকানন্দের মা বীর জননী হিসেবে জনসংবর্ধনা পাবেন মানে ইংরেজিতে যাকে বলে পাবলিক রিসেপশন সে কথায় অবাক হওয়ার কি? আপনি ঠিকই ধরেছেন এবং সম্পূর্ণ ভুল করেছেন।
বিবেকানন্দের মা বীর জননী আখ্যা পেয়েছিলেন পাবলিক রিসেপশনে এটা ঠিক। কিন্তু সেটা তিনি পেয়েছিলেন বিবেকানন্দের জননী হিসেবে নয়। বিবেকানন্দের সেজ ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের মা হিসেবে। যুগান্তর গোষ্ঠীর বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত স্বাধীনতা সংগ্রামে যখন জেলে যান তখন দেশের মানুষ ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত তথা বিবেকানন্দ বা নরেন্দ্রনাথ দত্তের মাকে বীর জননী হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
আজকের এই নতুন সহস্রাব্দে ভূপেন্দ্রনাথ দত্তদের কথা এক অলীক রূপ কথার মত। বিবেকানন্দ যখন পৌত্তলিক হিন্দু ধর্মের পুনরুত্থান এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত ,ব্রাহ্মসমাজের আগ্রাসনের মুখে, তখন ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত কমিউনিস্ট পার্টি গঠন লক্ষ্যে বার্লিন কমিটির মিটিং করছেন। সেই সময় বসে লিখছেন, ডাইলেকটিকস অফ ল্যান্ড ইকোনমি ইন ইন্ডিয়া। যার উপর নোট দিচ্ছেন স্বয়ং লেনিন। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাস লিখতে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে দেশ এবং সমাজকে চিনতে শেখাচ্ছেন। ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে বৌদ্ধ ধর্ম সবকিছুকে নতুন ভাবে বলছেন।
ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের শেষ অব্দি কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা সিপিআই এর সদস্য হননি এটা ঠিক। কিন্তু ভারতবর্ষে বামপন্থী দর্শন তার থেকেও বড় কথা ,মুক্ত চিন্তার পরিসরে ভারতীয় সমাজকে চিনতে এবং দেখতে শেখার অগ্রণী শিক্ষক ছিলেন ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। ভূপেন্দ্রনাথ দত্তকে নতুন প্রজন্ম প্রায় ভুলে গিয়েছে। বিবেকানন্দকে ঘিরে ব্যক্তি পূজার ঢক্বা নিনাদ ক্রমশ উচ্চ গ্রামে বেজে চলেছে, তার সিকিভাগ উদ্যোগ নিয়েও ভূপেন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে আমরা কোন চর্চা করিনি।


More Stories
ভারতরত্ন সম্মান : ইতিহাস ও বিতর্ক
“ইতিহাসের পাতা থেকে” কালজয়ী : সাহিত্যের মণিমুক্তো
আগ্রার ঔরঙ্গজেবের ‘মুবারক মঞ্জিল’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হল! নিন্দায় সরব ঐতিহাসিকরা