Home » আরজিকর মামলায় ১৮ই জানুয়ারি রায়দান, শিয়ালদহ আদালতে হবে সঞ্জয়ের ভাগ্য নির্ধারণ

আরজিকর মামলায় ১৮ই জানুয়ারি রায়দান, শিয়ালদহ আদালতে হবে সঞ্জয়ের ভাগ্য নির্ধারণ

সময় কলকাতা, বীথিন সরকার:- আর জি কর কাণ্ডের পাঁচমাসের মাথায় শেষ হয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া। চলতি মাসের ১৮ তারিখ আর জি কর ধর্ষণ ও খুন মামলায় রায়দান করবেন শিয়ালদহ আদালতের বিচারক। ধৃত সঞ্জয়কেই কী দোষী সাব্যস্ত করবে আদালত? সেক্ষেত্রে কী সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক? আদালতের রায়ের অপেক্ষায় গোটা দেশ।

বিচার পর্ব

৯০ দিনের মাথায় শিয়ালদহ আদলতে বিচারপর্ব শেষ হয়েছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি বেলা আড়াইটেয় এই মামলায় রায় ঘোষণা করবেন শিয়ালদহ আদালতের বিচারক। সঞ্জয়কেই যদি দোষী সাব্যস্ত করে আদালত তবে সেক্ষেত্রে কী সাজা ঘোষণা করা হবে, সেদিকে তাকিয়ে গোটা বাংলা গোটা দেশ। যদিও আর জি করে যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে, তা কারও একার পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয় বলেই বারবার দাবি করেছে বিভিন্ন মহল। অভিযোগ করা হয়েছে, এর নেপথ্যে হাসপাতালেরই একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। ফলে শুধুমাত্র সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও এই রায় আমজনতা কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট প্রশ্ন।

আরজিকর নিয়ে প্রতিবাদ

৯ আগস্টের পর থেকে আর জি কর কাণ্ডে তোলপাড় হয় বাংলা। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সোচ্চার হোন সাধারন মানুষ। শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজ্য, রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশ, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাধারণ মানুষ এই নারকীয় ঘটনার বিরুদ্ধে পথে নামেন।  ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করা হয় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে। শিয়ালদহ আদালতে শুরু হয় মামলা। বিচারপর্ব চলাকালীন আদালতে আর জি কর কাণ্ডকে বিরলতম ঘটনা বলে দাবি করেন সিবিআইয়ের আইনজীবী। যুক্তি দিয়ে আদালতে জানান, এই কান্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে কী কী প্রমাণ রয়েছে। কেনই বা সিবিআই তাকে অভিযুক্ত হিসাবে গণ্য করছে। ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের ফাঁসির সাজার দাবি করা হয় সিবিআইয়ের তরফে।

গত ১১ নভেম্বর আরজি করের ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। টানা দু’মাস ধরে তা চলল। এই মামলায় আগেই চার্জশিট দিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সেখানে ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারকেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আদালতে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

সিবিআইয়ের দাবির বিরোধিতা করে আদালতে ধৃতের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, তাঁর মক্কেল এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তই নন। গোটা ঘটনাটি সাজানো। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে তাঁর মক্কেলকে। বুধবারই আদালতে ধৃতের আইনজীবী জানান, নির্যাতিতার শরীরে কোনও ধস্তাধস্তির চিহ্ন মেলেনি। তাঁর পোশাকও অক্ষত ছিল। ফলে সিবিআই যা বলছে, তা সঠিক নয়। সিবিআইয়ের দেওয়া তথ্যপ্রমাণও পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেন অভিযুক্তের আইনজীবী।

সিবিআই জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তে যে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ মিলেছে, তাতে এক জনই অভিযুক্ত। এক জনের পক্ষেও যে ওই ঘটনা সম্ভব, তা বলা হয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রিপোর্টেও। সেই তথ্যপ্রমাণ উল্লেখ করেই ধৃতের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

যদিও নির্যাতিতার পরিবার আদালতে জানিয়েছে, এক জনের পক্ষে এই ঘটনা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করে। নতুন করে আরও বিশদে তদন্ত হোক, চান নির্যাতিতার বাবা-মা। এই দাবিতে তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে সব পক্ষের বক্তব্য শুনেছে আদালত। ধৃতের আইনজীবীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নিজেদের অবস্থান জানায় সিবিআই। শিয়ালদহ আদালতে রুদ্ধদ্বার কক্ষে এই বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে।

সেদিন কি দেখা গিয়েছিল

সেই অভিশপ্ত রাতে হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন তরুণী চিকিৎসক। ধৃত সিভিককে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই সেমিনার হলে ঢুকতে এবং বেরোতে দেখা গিয়েছে। কলকাতা পুলিশ ঘটনার পরের দিন তাঁকে গ্রেফতার করে। পরে এর তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।

আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে বিচার চেয়ে প্রথম দিন থেকে পথে নেমেছিলেন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ। চিকিৎসা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবিও তোলেন তাঁরা। একাধিক বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও বৈঠক হয়। বৃহস্পতিবার আরজি করের ঘটনার পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। সিবিআইয়ের তদন্তের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা এবং আন্দোলনরত চিকিৎসক মহল।

About Post Author