Home » পথকুকুরদের খেতে দেওয়া যাবে না, সল্টলেকে মহিলাকে মার!

পথকুকুরদের খেতে দেওয়া যাবে না, সল্টলেকে মহিলাকে মার!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পথকুকুরদের প্রতিদিন খাওয়ানো ‘অপরাধ’! তার জেরে নিগ্রহের শিকার হলেন এক মধ্যবয়সী মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে বিধাননগরের সল্টলেকে। সল্টলেক ইসি ব্লক কেন্দ্রীয় সরকারি আবাসনের কিছু বাসিন্দা ওই মহিলাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ। তাঁকে বাঁচাতে কিছু স্থানীয় যুবক, প্রবীণ গিয়েছিলেন। তাঁদেরও মারধর করা হয়েছে। বাঁশ, লোহার রড, ইট দিয়ে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

চরম আতঙ্কে রয়েছেন ওই মহিলা

ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্কে রয়েছেন ওই মহিলা। অভিযোগ, ওই মহিলার ছেলেকেও কিছুদিন আগে একই রোষের কারণে হেলমেট দিয়ে মারা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনা কি ঘটেছিল

জানা গিয়েছে, রাতে ওই মহিলা পথের কুকুরদের রোজ খেতে দেন। শনিবার রাতেও খাওয়ানোর জন্য বেরিয়েছিলেন। সেসময় আবাসনের জনা ২৫ যুবক, ব্যক্তি তাঁর উপর চড়াও হন। কুকুরদের খেতে দেওয়া যাবে না বলে জোর করা হয়। খানিক কথা কাটাকাটির পরই মারমুখী হয়ে ওঠেন অভিযুক্তরা। ওই মহিলাকে মারধর করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। মহিলার ব্যবহার করা স্কুটিও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রাণে বাঁচতে ওই মহিলা আবাসন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। রাস্তার কুকুরদেরও মারা হয়।

বেণু আঠা নামে ওই মহিলা কুকুরপ্রেমী। সে কারণে সল্টলেক এলাকার প্রায় আড়াইশো পথকুকুরকে খেতে দেন তিনি। সারমেয়দেয় চিকিৎসা করানো, ওষুধপত্র দেওয়ার কাজও করেন তিনি। কিন্তু ওই আবাসনের একটা অংশের বাসিন্দারা এই কুকুরদের সেবাযত্ন করার বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নেন না। এরও একটা কারণ রয়েছে। শুধুমাত্র স্টলেক নয়, এইরকম পশুপ্রেমী এই মুহূর্তে সারা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। অবলা প্রাণীদের খেতে দেওয়া খারাপ কিছু নয়। কিন্তু এই পশুপ্রেমীদেরও ভেবে দেখার সময় এসেছে, তাদের এই ধরনের কার্যকলাপের জন্য রাস্তায় বাড়ছে কুকুর-বিড়ালের সংখ্যা। আর এই কুকুর বিড়ালরা যখন তখন নিজেদের মধ্যে চেঁচামেচি করছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির অসুস্থ বয়স্ক মানুষ ঠিকমতো ঘুমোতে পারেনা এই সমস্ত পথ কুকুর বিড়ালের জন্য। এমনকি কুকুর বা বিড়ালের আক্রমণের শিকার হয়েছে এলাকার অনেক শিশু, এমনটাও অভিযোগ উঠে আসে মাঝেমধ্যেই। আর সেই কারণেই সমাজের একটা অংশের সাধারণ মানুষ এই বিষয়টিকে সহজ ভাবে নিতে পারে না। প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। সেই মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত প্রত্যেকেই।

About Post Author