Home » শুধু কোর কমিটি নয় !অভিষেকের মেগা বৈঠকে আমন্ত্রিত সবস্তরের নেতা,গোটা দলকেই বৈঠকে ডাকছেন শনিবার

শুধু কোর কমিটি নয় !অভিষেকের মেগা বৈঠকে আমন্ত্রিত সবস্তরের নেতা,গোটা দলকেই বৈঠকে ডাকছেন শনিবার

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভূতুড়ে ভোটার ইস্যুতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। রাজ্য রাজনীতি বললে হয়তো ভুল হবে। বলা ভালো এই ভুয়ো ভোটারের তর্জা পৌঁছেছে রাজধানীর আঙিনাতেও। সেই ইস্যুতেই শনিবার বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভূতুড়ে ভোটারের স্ক্রুটিনির জন্য কোর কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে শনিবারের বৈঠকে শুধু কোর কমিটি নয়, অভিষেকের শনিবারের বৈঠকে ডাক পেয়েছেন দলের সর্বস্তরের নেতাই। রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন, এর কি কোনও বড় অর্থ রয়েছে ? চর্চা তুঙ্গে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইনডোরে তৃণমূলের বর্ধিত কর্মিসভার বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার লিস্টে ভূতুড়ে ভোটার ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

শনিবারের বৈঠকে ডাক পেয়েছেন দলের সর্বস্তরের নেতাই

সেই সব ভূত ঝাড়াই বাছাইয়ের জন্য রাজ্যস্তরে একটি স্ক্রুটিনি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কমিটিতে ছিলেন সুব্রত বক্সী, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম প্রমুখ। কমিটিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ভবনে গত সপ্তাহে কমিটির প্রথম বৈঠকেই অভিষেক যাননি। তার পরক্ষণেই জানা যায়, ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে ১৫ মার্চ বৈঠক ডাকেন অভিষেক। এদিকে, কোর কমিটির প্রথম বৈঠকে ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে স্ক্রুটিনি কমিটির জেলাওয়াড়ি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায়, সেই জেলাওয়াড়ি কমিটি গঠনও স্থগিত রাখার নির্দেশ আসে কালীঘাট থেকে। এর পরই অভিষেকের ডাকা বৈঠকের চেহারা আড়ে-বহরে বাড়তে শুরু করে।

চর্চা যেন আরও খানিকটা বেড়ে গেল

কৌতূহলও বাড়ল, জল্পনাও বাড়ল। কারণ, শনিবারের বৈঠকে শুধু কোর কমিটি নয়, অভিষেকের । ভোটার লিস্টে ভূতুড়ে কাণ্ড ধরতে যে তৎপরতা শুরু হয়েছিল, এবার তা যেন অভূতপূর্ব মোড় নিল! বাংলায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে যা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠকে শুধু রাজ্য কমিটির গুটিকয়েক নেতা বা জেলা সভাপতিদের মধ্যে সীমিত নেই। বৈঠকে থাকতে বলা হয়েছে, দলের রাজ্য কমিটির সমস্ত নেতাকে। সব সাংসদ, সব বিধায়ক, জেলা পরিষদের সব সদস্য এবং কলকাতা সহ সকল পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলরকে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ পাঠাতে শুরু করেছে তৃণমূল।

 

লোকসভা ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক বিষয় আশয় নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুব কমই সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে  বরং এও দেখা গিয়েছে যে, দলের বিধায়কদের বৈঠকে ডেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিচ্ছেন, তিনিই সংগঠন দেখবেন। তাঁর কথাই শেষ কথা। একাধিক বিষয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে আড়ষ্টতা তৈরি রয়েছে। দলের অন্দরে নেতাদের মধ্যেই এবিষয়ে আলোচনা থাকলেও প্রকাশ্যে তা আনতে নারাজ কেউই। যদিও, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বক্তৃতা থেকে অভিষেককে বলতে শোনা গিয়েছিল, বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, অভিষেক বিজেপিতে যাচ্ছে, নতুন দল করছে। কিন্তু তিনি বেইমান নন। গলা কেটে দিলেও তিনি বিজেপিতে যাবেন না।

সেদিন এই আড়ষ্ঠতা খানিকটা কাটলেও ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে দলনেত্রী কোর কমিটি তৈরি করে দেওয়ার পরেও এই ইস্যুতে অভিষেকের আলাদা বৈঠক ডাকায় সেই আড়ষ্টতারই ইঙ্গিত দিয়েছে ফের একবার। এবার স্রেফ কোর কমিটি নয়, দলের সর্বস্তরের নেতা-নেত্রীদের ডাকায় তা আরও বড় আকার ধারণ করেছে। সন্দেহ নেই, এই ছবিটায় অনেকেই একটা বৈপরীত্য দেখতে পাচ্ছেন। স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, সংগঠনের স্নায়ুকেন্দ্রে কে রয়েছেন। কার বার্তা তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই শনিবারের বৈঠককে একটি নতুন অধ্যায় বা মাইলফলক বলে হয়তো চিহ্নিত করা যেতে পারে। কারণ, ছাব্বিশের ভোটের আগে ফের যেন গুছিয়ে প্যাড-গ্লাভস পরতে দেখা যাচ্ছে অভিষেককে। বাকিটা সময় বলবে।

About Post Author