সময় কলকাতা, সানি রায়, উত্তরবঙ্গ:-ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত, যে সীমান্ত বরাবরই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কারণ সীমান্ত চোরাচালান, সীমান্ত অনুপ্রবেশ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের শান্ত পরিবেশ বরাবরই অশান্ত করেছে। বিগত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ভারতবর্ষের যেসকল রাজ্যে একাধিকবার জঙ্গি ধরা পড়েছে এবং অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে, প্রতিক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে তারা যে জাল ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড বানিয়েছে সবই প্রায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে বানানো। অর্থাৎ অনুপ্রবেশের একটা চেইন বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ভারতে বিস্তৃত হয়েছে। এর পিছনে কিছুটা ভোটের রাজনীতিও কাজ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীরা বার বার সোচ্চার হয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে। সেক্ষেত্রে শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে বারবার। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ফেক ভোটার নিয়ে যে তরজা চলছে তারও পিছনে রয়েছে এই অনুপ্রবেশ।
ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা
প্রসঙ্গত ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা ৪১৫৬৫৬ কিলোমিটার। এটি বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম ভূমি সীমা বা সীমান্ত। যার মধ্যে রয়েছে আসামে ২৬২ কিলোমিটার, ত্রিপুরায় ৮৫৬ কিলোমিটার, মিজোরামের ১৮০ কিলোমিটার, মেঘালয়ে ৪৪০ কিলোমিটার ,পশ্চিমবঙ্গে ২২১৭ কিলোমিটার। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত সবচেয়ে বেশি। ২০২১ সালের ৩রা আগস্ট ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদে এক লিখিত জবাবে জানায় যে বাংলাদেশ সীমান্তে তারা ৪০৯৭ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসাতে পেরেছে অর্থাৎ এখনো বহু জায়গায় সীমান্ত অসুরক্ষিত। সীমান্তে সেই অংশে কড়া নিরাপত্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা করে বরাবরই সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ
বিরোধীরা যখনই রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করেছে অনুপ্রবেশ নিয়ে তখনই শাসক দল-পালটা আক্রমণ করেছে সীমান্তে নিযুক্ত সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এবং কেন্দ্র সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলে। পাল্টা আক্রমণে বিজেপি রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করেছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীদের জন্য রাজ্য সরকার জমি না দেওয়া নিয়ে। অর্থাৎ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতান্তর রয়েছে, পাশাপাশি দেশের মধ্যেও মতান্তর রয়েছে।তবে রাজ্য সরকার এবার উদ্যোগী হয়েছে সীমান্ত রক্ষীদের জমি নির্ধারণ করে জমি হস্তান্তরের জন্য।
জমি দিল রাজ্য সরকার
জলপাইগুড়ির নাগরা কাটা এলাকায় গঁটিয়া মৌজায় সশস্ত্র সীমা বলকে দুই একর জমি দিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা এই বরাদ্দ জমির অনুমোদনের পাশাপাশি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও সমাপ্ত করেছে। এসএসবি জমির প্রয়োজনীয়তার কথা বহু আগেই জানিয়েছিল রাজ্য সরকারকে। মূলত আউটপোস্ট তৈরি করার জন্যই জমির প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছিল। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এবং আলোচনার পরে দুই একর জমি মঞ্জুর করা হয় এসএসবি আউট পোস্টের জন্য। ভারত ভুটান সীমান্ত সুরক্ষার কথা ভেবেই এই জমির অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এর আগে বিন্নাগুরিতে আউট পোস্ট তৈরি করার জন্য জমি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তারও আগে মালদার নারায়ণপুরে ১৯.৭৩ একর এবং নদীয়ার করিমপুর সীমান্তে বিএসএফ আউটপোস্ট তৈরির জন্য জমি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। অর্থাৎ বিরোধীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যে বারবার বলে এসেছে রাজ্য সরকার জমি সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জন্য দিচ্ছেন না, সে কথাটা কিছুটা হলেও ভুল।
বাংলাদেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি ভারতে অনুপ্রবেশ-এর মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে
ভোটের রাজনীতির কথা ভুলে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যৌথভাবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় সীমান্ত সুরক্ষা যদি আরও সুরক্ষিত করে সে ক্ষেত্রে দেশের মঙ্গল। কারণ ৫ই আগস্টের পর বাংলাদেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি ভারতে অনুপ্রবেশ এর মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠন এবং জঙ্গি সংগঠন ভারতে নাশকতার যে পরিকল্পনা করে চলেছে তা প্রতিহত করতে গেলে সীমান্ত সুরক্ষা আরও কড়া করতে হবে। এ কথা মানছেন দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে বিশিষ্ট জনেরা পাশাপাশি সরকারের গোয়েন্দা বিভাগও। কারণ ভারত সরকারের বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির পরেই ভারতে অনুপ্রবেশের মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গে একাধিক জায়গায় ভুয়ো পাসপোর্ট এবং আধার কার্ড সহ একাধিক ব্যক্তির গ্রেফতারি এই দাবিকেই মান্যতা দেয়।


More Stories
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?