Home » দুর্নীতি থেকে সরাসরি সুবিধে পেয়েছেন যাঁরা, এ বার তাঁরাও তদন্তে আতস কাচের নিচে

দুর্নীতি থেকে সরাসরি সুবিধে পেয়েছেন যাঁরা, এ বার তাঁরাও তদন্তে আতস কাচের নিচে

সময় কলকাতা ডেস্ক:- জাল নথির ভিত্তিতে নকল সার্টিফিকেট বানিয়ে এতদিন দিব্যি ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখায় চাকরি করছেন হাজার হাজার কর্মী। কেন্দ্রীয় বাহিনীতে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এবার সেই সকল চাকরি পাওয়া জওয়ানদেরও তলব করছে সিবিআই। উত্তর ২৪ পরগনাকে কেন্দ্র করে কাজ করা ওই চক্রটিকে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে, নিজেদের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিপন্ন করে বিহার, উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েক জন চাকরিপ্রার্থী এ রাজ্যে বিএসএফ, এসএসবি-র মতো কেন্দ্রীয় বাহিনীতে চাকরি পান বলে সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের সন্দেহ

ভুয়ো নথির ভিত্তিতে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বার করা এবং তার ভিত্তিতে আধাসেনায় নিয়োগ দুর্নীতির চক্রে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের একাধিক অফিসার ও কর্মী জড়িত। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক এভিডেন্স নিয়ে সিবিআই ইতিমধ্যেই দুর্নীতিতে চাকরি পাওয়া ওই জওয়ানদের নিজাম প্যালেসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিবিআইয়ের দাবি, কর্মরত ওই জওয়ানদের অনেকের সঙ্গেই মহেশ কুমার চৌধুরীর যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে।

সিবিআই সূত্রে খবর

সিবিআই সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীতে কর্মরত এ রাজ্যের প্রায় ১৪২ জনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে জনা তিরিশেক জওয়ানকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নোটিস দিয়ে তলব করে সিবিআই। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়। সিবিআইয়ের বক্তব্য, ওই জওয়ানদের জন্ম স্কুল পড়াশোনা সব বিহার কিংবা উত্তরপ্রদেশে। অথচ তাঁদের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার। এটা কী ভাবে সম্ভব? ওই জওয়ানদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁদের চাকরি কী প্রক্রিয়ায় হয়েছিল? অভিযুক্ত মহেশ কুমার চৌধুরীর সঙ্গে তাঁদের পরিচয় কী ভাবে? ধাপে ধাপে টাকাই বা কী ভাবে নেওয়া হয়েছিল? চাকরি পাওয়ার আগে ও পরে, কখন কত টাকা দিতে হত? মহেশ ছাড়া অন্য কোনও এজেন্টের সঙ্গে তাঁদের কি যোগাযোগ ছিল?

পাঁচ-ছ’লক্ষ টাকা দেওয়ার বিনিময়ে আধাসেনায় চাকরি পেয়েছেন, এ রকম প্রায় ১৫০ জনকে চিহ্নিত করেছে সিবিআই। তাঁরা সবাই কোনও না কোনও কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীর কনস্টেবল। আজ, সোমবার নিজাম প্যালেসে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা ডেকে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীতে কর্মরত চার জনকে। সিবিআইয়ের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতিতে এ রাজ্যে ‘অনেক বড় মাথা’ জড়িত। ফলে চাকরি পাওয়া জওয়ানদের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়ো নথি দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বার করে তার ভিত্তিতে আধাসেনায় নিয়োগ। গত ৩১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের সন্দেহভাজন পান্ডা, সেনা জওয়ান মহেশ কুমার চৌধুরীকে। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়ায় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার স্টোর্স ডিপোতে কর্মরত ছিলেন। যদিও এই মুহূর্তে মহেশকে আলিপুরের সিবিআই আদালত জামিনে মুক্তি দিয়েছে।

About Post Author