Home » নদীর জলে ক্যান্সারের বীজ!: আইসিএমআর

নদীর জলে ক্যান্সারের বীজ!: আইসিএমআর

সময় কলকাতা ডেস্ক:- গাঙ্গেয় অববাহিকায় বসবাসকারী লোকজন ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ২০১২ সালেই প্রথম এই কথা জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় চিকিৎসা গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ অর্থাৎ আইসিএমআর। এক যুগ পরে সেই আইসিএমআর-ই ফের জানাল, শুধু গঙ্গাই নয়, ভারতের যে কোনও নদী-নালার আশপাশে থাকা লোকজনের মধ্যেই ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি। মূলত এর প্রধান কারণ হলো সেই নদীতে মেশে সংশ্লিষ্ট অববাহিকার বর্জ্য। নদী ক্রমশ দূষিত হয়ে উঠছে। যার নেপথ্যে রয়েছে সিসা, আর্সেনিক, অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতুর সহনসীমার অনেক বেশি মাত্রায় উপস্থিতি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে নদী-নালায় মেশা নিকাশি বর্জ্যের যথাযথ প্রক্রিয়াকরণ প্রয়োজন। নদীর জলে মেশা রাসায়নিকের মাত্রাকে সহনসীমার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে অনেকগুলি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রক। বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে শিল্পজাত বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের উপরে। যদিও তার ইতিবাচক প্রভাব কবে ও কত দূর পড়বে জনস্বাস্থ্যে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলছেন

কী ভাবে এই ভারী ধাতুগুলো সেঁধিয়ে যাচ্ছে মানব শরীরে? এর ব্যাখ্যায় ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘নদীতে মেশা রাসায়নিক বর্জ্য দু’ভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রথমত, তা পানীয় জল ও ভূপৃষ্ঠের জল, দুটোকেই কার্সিনোজেনিক উপাদানে পুষ্ট করে। আর দ্বিতীয়ত, আমাদের অজান্তেই সেই জল প্রতি মহূর্তে পান করা এবং অন্যান্য গেরস্থালি ব্যবহারের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে ডিএনএ-র অপূরণীয় ক্ষতি করে দেয়। এতে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বেড়ে যায়, যার জেরে মানব শরীরে বাসা বাঁধছে ক্যান্সার। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ যেমন জরুরি, তেমনই দরকার দ্রুত ক্যান্সার নির্ণয় ও তার যথাযথ চিকিৎসা।

আইসিএমআর-এর এই নিকাশি সংক্রমিত নদীর দূষণ ও তার জেরে ক্যান্সারের আশঙ্কার কথা রাজ্যসভায় জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও জাধব। তিনি জানান, আইসিএমআর-এর ওই স্টাডিটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’ জার্নালে। পাশাপাশি মন্ত্রী জানান, ক্যান্সারের এই প্রবল মাথাচাড়ার মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই কী কী পদক্ষেপ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসার পরিকাঠামোয় জোর দেওয়া।

আইসিএমআর স্টাডিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, দেশের অধিকাংশ সমতলভূমির বড় নদীর নিকাশি সংলগ্ন এলাকায় ক্যান্সারের জন্ম দিতে সক্ষম কার্সিনোজেনিক মৌল ও অজৈব যৌগের পরিমাণ এই মুহূর্তে মাত্রাছাড়া!আর নদী-নালার ওই অংশের জলে আর্সেনিক, অ্যালুমিনিয়াম, সিসার মতো এই কার্সিনোজেনিক ধাতুর মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতিই যে আশপাশে থাকা লোকজনের মধ্যে বেড়ে চলা ক্যান্সারের কারণ, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছেন চিকিৎসকরা।

About Post Author