Home » সুপ্রিম রায়ে চাকরি হারা এক গ্রামেরই শতাধিক, ‘মাস্টার-পাড়ায়’ হাহাকার

সুপ্রিম রায়ে চাকরি হারা এক গ্রামেরই শতাধিক, ‘মাস্টার-পাড়ায়’ হাহাকার

সময় কলকাতা ডেস্ক:- সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে মুহূর্তের মধ্যে হাহাকার উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার মামাভাগ্নে গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকালে যখন দেশের শীর্ষ আদালত ২৬ হাজার শিক্ষকের গোটা প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিল, তখন এই গ্রামে যেন পিন পতনেরও শব্দ শোনা যাবে।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একেবারে প্রথমেই নাম উঠে এসেছিল সৎ রঞ্জনের। টাকার বিনিময়ে বেআইনি ভাবে নিয়োগের যে চক্র কাজ করেছিল, তার অন্যতম মাথা এই সৎ রঞ্জন। যার আসল নাম চন্দন মণ্ডল। সে এই মামাভাগ্নে গ্রামেরই বাসিন্দা। সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় কেউ জমি-জমা বিক্রি করে, কেউ আবার সব সঞ্চয় ভাঙিয়ে এই চন্দনের হাতেই তুলে দিয়েছিল টাকা। তার বদলে পেয়েছিল স্কুল শিক্ষকের চাকরি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ধাক্কায় চাকরি হাতছাড়া যেমন হলো, তার সঙ্গেই গেল টাকাও।

এই চন্দন মণ্ডলের হাত ধরে বাগদা ব্লকের মামাভাগ্নে গ্রামে বেআইনি ভাবে বহু লোক শিক্ষকের চাকরি পেয়েছিল। এলাকার বহু বাসিন্দা স্কুলের চাকরি করেন বলে, এই এলাকা ‘মাস্টার পাড়া’ নামে পরিচিত বর্তমানে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই গ্রেপ্তার হয়েছে চন্দন। তার বিরুদ্ধে বাগদার মামাভাগ্নে এলাকা সহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষকে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন চাকরি বাতিলের তালিকায় এই গ্রামের প্রায় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাম ছিল। সুপ্রিম কোর্টে মামলা যাওয়ায়, কিছু আশা দেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বৃহস্পতিবারের রায় সেই আশাতেও জল ঢেলে দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায় শোনার পর থেকে বাগদার মামাভাগ্নে গ্রামে হাঁড়ি চড়েনি বহু বাড়িতে।

চাকরি গিয়েছে এই গ্রামের শতাধিক ব্যক্তির। তারা কেউ নামখানায়, কেউ গঙ্গাসাগরে চাকরি করছিল। কেউ হয়েছিল শিক্ষক, কেউ আবার শিক্ষাকর্মী। চাকরি যাওয়া পরিবারের সদস্যদের দাবি, চন্দন মণ্ডলকে টাকা দিয়েই চাকরি হয়েছিল বাড়ির ছেলের। সূত্রের খবর, ওই এলাকায় ১০০-রও বেশি যুবককে চাকরি দিয়েছিল চন্দন। এক একজনের চাকরির জন্য ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছিল সে। সরকারি চাকরির আশায় জমি বিক্রি করে, ব্যাঙ্ক লোন নিয়ে সেই টাকা দিয়েছিলেন অনেকে। এখন তাঁদের কী হবে? সেই প্রশ্ন তুলছেন চাকরি-হারা পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় এক বাসিন্দার ছেলের চাকরি গিয়েছে, তাঁর ক্ষোভ, ‘দেড় বিঘা জমি বেচে টাকা দিয়েছিলাম। এখানে অনেকেই দিয়েছিল টাকা।’ চাকরি গিয়েছে, জমিও গিয়েছে।

About Post Author