Home » আরএসএস-এর কাছে নিজের অভাব-অভিযোগ জানিয়ে এলেন দিলীপ ঘোষ

আরএসএস-এর কাছে নিজের অভাব-অভিযোগ জানিয়ে এলেন দিলীপ ঘোষ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ-এর নির্দেশেই বিজেপিতে এসেছিলেন তিনি। সেই আরএসএসের কাছে গিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে এলেন দিলীপ ঘোষ। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে তিনি নিজের দলের একাংশের বিরুদ্ধে রণং দেহি হয়েছেন, দলের কারা তাঁকে নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন-তা সবিস্তারে সঙ্ঘের নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন দিলীপ।

আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্ব দিলীপকে ‘পাশে থাকার’ বার্তা দিলেও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দি‍লীপকে কতটা ছাড় দেবেন, তা নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক মহলে সংশয় আছে। কারণ, বুধবারই কলকাতায় দলের সাংগঠ‍নিক বৈঠকে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল ঘোষণা করেন, ২০২৬-এ বাংলার বিধানসভা ভোট বিজেপি শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বেই লড়বে। গেরুয়া শিবিরের একাংশ মনে করছে, দিলীপকে ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দিলীপ নিজে অবশ্য সে রকম কিছু মনে করছেন না। তাঁর কথায়, ‘ওঁরা দলের ঘোষিত নেতা। সুকান্ত, শুভেন্দুর কথাই তো বনসলজি বলবেন। এটাই তো স্বাভাবিক।’

দিলীপের দাবি, তাঁর বক্তব্য শোনার পর সঙ্ঘ নেতৃত্বের যাবতীয় সন্দেহ এবং বিভ্রান্তি দূর হয়েছে। এবং কেন দি‍লীপ রণং দেহি হয়েছেন সেটাও আরএসএস নেতৃত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আরএসএসের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা ব‍লেছি। ওঁদের কিছু কনফিউশন তৈরি হয়েছিল। আমি পরিষ্কার করে আরএসএসের শীর্ষ নেতাদের জানিয়েছি, আপ‍নারা আমাকে যে কাজ করতে বিজেপিতে পাঠিয়েছিলেন, সেটাই করছি। যে দিন চলে আসতে বলবেন, সে দিনই চলে আসব। আজ বললে আজই। কিন্তু আমার সঙ্গে নোংরা রাজনীতি করলে আমি চুপ করে থাকব না।’

কয়েকদিন আগে দিলীপ দাবি করেন, অর্জুন, সৌমিত্রর মতো যাঁরা হঠাৎ বিজেপি হয়েছেন, তাঁরাই দলটার সর্বনাশ করছেন। রাজনৈতিক মহলে দিলীপের দলবদলের জল্পনাও ছড়ায়। দিলীপের ‘বিদ্রোহ’ এবং তাঁর মুখে মমতা সম্পর্কে কিছু প্রশংসাবাক্য শুনে সন্দেহ হয় আরএসএস নেতৃত্বেরও। দিন তিনেক আগে বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝতে বাং‍লায় সঙ্ঘের সদর দপ্তর ‘কেশব ভবন’-এ ডেকে পাঠানো হয় দিলীপকে। আরএসএসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সেখানে দিলীপের দীর্ঘ বৈঠক হয়।

সম্প্রতি রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে হাজির হয়েছিলেন সস্ত্রীক দিলীপ। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তাঁরা। মমতা-দিলীপের হাসিমুখে পাশাপাশি বসে থাকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় গেরুয়া শিবিরে।

About Post Author