সময় কলকাতা ডেস্ক:- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহার সফরে এলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান উকিল বর্মন ও তাঁর পরিবার। সীমান্তের জীবন যন্ত্রণার কথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বলতে চায় বর্মন পরিবার।
জয়েন্ট বিডিও-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা ইতিমধ্যে তাঁর বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার পাশাপাশি রেশন-সহ রাজ্য সরকারের প্রকল্পের কী কী সুবিধা পাচ্ছেন, সে ব্যাপারে খোঁজ নেয়। এ ছাড়া তাঁদের কৃষি ঋণের সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা বলেন, ‘উকিল বর্মনকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে৷ প্রশাসন সবসময়ে এই পরিবারের পাশে আছে।’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উকিল বর্মনকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। স্পেশাল কোটায় এক লক্ষ ২০ হাজার টাকায় পাকা বাড়ি পেতে চলেছেন তিনি।
পশ্চিম শীতলখুচির পণ্ডিতপাড়া গ্রামে কাঁটাতারের ও পারে বর্মন পরিবারের চার বিঘা জমি আছে। এই জমিতেই চাষ করে দিন গুজরান হয় পরিবারের। এ বছরও জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছিলেন তাঁরা। তবে জমির ধান পেকে নষ্ট হলেও সেই জমিতে যেতে নারাজ পরিবার। ছেলে পরিতোষ বর্মন বলেন, ‘দিদির কাছে আমাদের সমস্যার কথা বলতে চাই৷ আমরা কাঁটাতারের ও পারে জমিতে আর কাজ করতে যেতে চাই না। বিএসএফের সামনেই যে ভাবে বাবাকে অপহরণ করে নিয়ে গেল তারপর থেকে আমাদের আর ভরসা নেই। বাবা-মাকে আর ওই জমিতে কাজ করতে পাঠাব না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমাদের এ পারেই জমির পাট্টা দেওয়া হোক।’
বাংলাদেশ থেকে ফিরে কাঁটাতারের ও পারে নিজের জমিতে আর চাষ করতে যেতে নারাজ উকিল। অভাবের সংসারে ধান চাষ করেই সংসার চলে তাঁদের। দুই ছেলে কেরালায় দিনমজুরের কাজ করতেন। বাবার অপহরণের খবরে তাঁরা বাড়ি ফিরে এসেছেন। এখন চাষের কাজ না করলে সংসার চলবে না। আবার জমিতে যেতেও সাহস পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে চান উকিল পরিবার।


More Stories
কলকাতা-হিমাচল সরাসরি ট্রেন চালু, বাংলা পর্যটকদের জন্য নতুন সুবিধা
২৮ বছর পরে কংগ্রেসে কি ফিরবেন মমতা?
জেলে জায়গা হবে তো? কৃষ্ণ ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের মাফিয়া নন্দন গ্রেফতার