সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভারী বর্ষণের কারণে জলে ভাসছে অসম মেঘালয়, মনিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, সিকিম, এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেই মত আবহাওয়াবিদদের। এখনও পর্যন্ত আট রাজ্য মিলিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের। অসমের ১৯ টি জেলার ৭৬৮ গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি অসমের কাছাড় জেলায়। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। শ্রীভূমি, নগাও ,লখিমপুর জেলায় ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা লক্ষাধিক। মনিপুরের ইম্ফল পূর্ব এবং ইম্ফল পশ্চিম এই দুই জেলা সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায় কুড়ি হাজার মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
খুড়াই, হেইগাং, ঢেকন এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফল এর বেশ কিছু এলাকা। অরুনাচল প্রদেশে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে ভূমিধসের কারণে। কামিং জেলায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ভূমিধসে, আর ২ জনের মৃত্যু হয়েছে জিরো এলাকায়। অন্যদিকে সিকিমের পরিস্থিতি বিগত তিন দিন ধরে ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছিল।
ভুটান পাহাড়ের ভারী বৃষ্টির জল সিকিমের অতি ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তর সিকিম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। উত্তর সিকিমে ভূমিধসে নিহত হয়েছে ৩ সেনা কর্মী, আহত ৪ সেনা জওয়ান। সোমবার লাচুং-এ আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে উত্তর সিকিমের ফিদাং এ নিয়ে আসা হয়। হুটখোলা গাড়িতে করে পর্যটকদের নিয়ে আসার সময় এলাকার মানুষজন উষ্ণ সম্বর্ধনা জানান।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি আইন শৃঙ্খলা তাসি ওয়াংচুক, মাঙ্গন জেলার এসপি ডি ভুটিয়া সহ আরও প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা। ১২৭৬ জন পর্যটক এবং বাসিন্দা সঙ্গে দুইজন বিদেশি পর্যটককে কুতুয়া রোড দিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। যদিও ১১২ জন পর্যটক এবং এলাকার বাসিন্দা সেইসঙ্গে চার জন বিদেশি পর্যটক আটকে ছিল লাচেনে।
মঙ্গলবার ভোর বেলায় বিশেষ হেলিকপ্টারে একটি উদ্ধারকারী দল পৌঁছায় সিকিমের পাকিয়াং বিমানবন্দরে। সেখান থেকে লাচেনের ছাতেনে পৌঁছায় এনডিআরএফের এই বিশেষ দল। অবশেষে ছাতেন থেকে উদ্ধার করে আনা হয় ৩৪ জনকে। উদ্ধারে ব্যবহার হয়েছিল এম সেভেন্টিন ভি ফাইভ হেলিকপ্টার।।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসাধীন সেনা সদস্য তাদের পরিবারের সদস্য এবং আটকে পড়া পর্যটকরা রয়েছেন।
সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী মঙ্গন থেকে গ্যাংটক ভায়া রাকদুম রাস্তা ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গন থেকে গ্যাংটক ভাইয়া ফোডং রাস্তা হালকা যানবাহনের চলাচলের উপযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গল থেকে চুংথাং ভায়া ফিডং রাস্তাও চলাচলের উপযুক্ত করা হয়েছে।
কিন্তু মঙ্গল থেকে চুংথং ভায়া টুং এর রাস্তা এখনও পর্যন্ত বন্ধ, বন্ধ রয়েছে লাচেন থেকে থাঙ্গু যাওয়ার রাস্তা, থাঙ্গু থেকে গুরুদম্ভা যাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর