সময় কলকাতা ডেস্ক:- ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটার ঘর পেরিয়েছে। আকাশ ভেঙে মুষলধারায় বৃষ্টি। বনকর্মী থেকে চিকিৎসক, সকলেই বৃষ্টিতে ভিজছেন। এই সব কিছুর মধ্যে চারিদিকের নিস্তব্ধতা ভেদ করে শোনা যাচ্ছে গোরুমারার রামসাই মেদলা ক্যাম্পের কুনকি হাতি রামির প্রসবজনিত চিৎকার। যন্ত্রণায় ছটফট করছে সে। অবশেষে অপেক্ষার অবসান। চিকিৎসক ও মাহুতদের তৎপরতায় রাত দেড়টা নাগাদ রামির কোল আলো করে জন্মাল ফুটফুটে এক কন্যা। আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না রামির দেখভালের দায়িত্বে থাকা মাহুত ও তাঁর সহকারীরা। মেদলা ক্যাম্পের পিলখানায় নতুন অতিথির আগমনে গোরুমারায় এখন খুশির আমেজ।
জানা গিয়েছে, আপতত বন কর্মীদের নজরে থাকবে রামি ও তার সদ্যোজাত সন্তান। বিশেষ যত্ন নেওয়া হবে তাদের। প্রসবের কিছুক্ষণ পরেই রামিকে ফল, কলাগাছ খেতে দেন বনকর্মীরা। উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ শাখার মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি বলেন, ‘রামি ও তার সন্তান দু’জনই এখন সুস্থ রয়েছে।’
গত সন্ধ্যায় রামির শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখে চিকিৎসক শ্বেতা মণ্ডল আন্দাজ করেন, প্রসবের অন্তিম সময় আসন্ন। মাঝরাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই রাত দেড়টা নাগাদ সন্তান প্রসব করে রামি। প্রসবের কিছুক্ষণ পরেই সদ্যোজাতকে রামির কাছে নিয়ে যান বন কর্মীরা।
কিন্তু গত দুই দিন ধরে প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাতে শুরু করে মেদলা ক্যাম্পের কুনকি হাতি রামি। তার দেখভালের জন্য থাকা চিকিৎসক-সহ বনকর্মীরা চব্বিশ ঘন্টা নজরদারি শুরু করেন। ব্যবস্থা করা হয় স্যালাইনের, যাতে রামির শারীরিক অবস্থার অবনতি না ঘটে।
বন দপ্তর সূত্রের খবর, মার্চ মাসে গোরুমারা বিটের মূর্তি নদীর চড় ছেড়ে জঙ্গলের ভিতরে আত্মগোপন করেছিল অন্তঃসত্ত্বা রামি। ওই ঘটনায় বন কর্তাদের মাথায় চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছিল। তবে টানা পাঁচ দিনের চেষ্টায় গোরুমারার অদূরে নাথুয়া রেঞ্জের মাঝিয়ালি থেকে রামিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। তার পর থেকেই বন দপ্তরের কড়া নজরদারিতে রাখা হয় রামিকে। মাহুত ও বন কর্মীদের নিয়োগ করা হয় রামির সুরক্ষার জন্য। পাশাপাশি বিশেষ ভাবে রামির দেখভালের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল এক পশু চিকিৎসককেও।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি