Home » কসবা কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্য কল্যাণ-মদনের. ‘ব্যাক্তিগত মত’, বলল তৃণমূল, দলের পোস্ট তুলে ধরে পোস্ট করলেন মহুয়া-ও

কসবা কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্য কল্যাণ-মদনের. ‘ব্যাক্তিগত মত’, বলল তৃণমূল, দলের পোস্ট তুলে ধরে পোস্ট করলেন মহুয়া-ও

সৌভিক সান্যাল, সময় কলকাতা:-কসবা কাণ্ডের সূত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেই বিদ্রোহ শুরু হয়ে গেল। যে বিদ্রোহের হোতা দলের মুখর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পালে যোগ হন তৃণমূলের কালারফুল বয় মদন মিত্রও। তবে দলের দুই প্রবীণ নেতা বিতর্কিত মন্তব্য করতেই আসরে নামল দল। কল্যাণ ও মদনের মন্তব্য তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত বলে স্পষ্ট করে দিল তৃণমূল। আর এসবের মাঝেই আসরে নামলেন তৃণমূলেরই আরেক মহিলা সাংসদ। আরও একবার যেন আরজি কর ধর্ষণকাণ্ডের সময় তৃণমূলের বিদ্রোহ ফিরে দেখা।মুখ খুলে বিপাকে। কসবা কাণ্ডের সূত্র ধরে শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বিস্ফোরণের কম্পন এমনই যে দক্ষিণে কাকদ্বীপ থেকে উত্তরে শিলিগুড়ি পর্যন্ত তা অনুভূত হয়েছে।

কল্যাণ বলেন, লজ্জা লাগে! এমন বিকৃত মানসিকতার লোক দলে থাকবে কেন? যারা এই ঘৃণ্য অপরাধ করেছে, তাদের দল থেকে বার করে দেওয়া উচিত। কল্যাণের বিশ্বাস, এমন লোককে বের করে দিলে মানুষ তাতে খুশি হবে অখুশি হবে না। এদিকে, শুক্রবারও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, একজন ছাত্রীকে যদি তার সহপাঠীরা রেপ করে থেকে দুঃখের খবর আর কি হতে পারে।

কল্যাণের মন্তব্য

সেই রেশ কাটার আগেই শনিবার ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর কথায়, কসবার এই ঘটনায় মেয়েদের কাছে, পড়ুয়াদের কাছে একটা বার্তা পৌঁছে গিয়েছে। মেয়েটি ওখানে না গেলে এই ঘটনা ঘটত না। ঠিক তার পরেই আসরে নামে তৃণমূল। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্রের মন্তব্য তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত বলে স্পষ্ট করে দেয় তৃণমূল। দুই নেতার মন্তব্যেরই কড়া নিন্দা করে শীর্ষ নেতৃত্ব। পাশাপাশি দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিও জানিয়েছে। দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, কল্যাণের বক্তব্যকে দল সমর্থন করছে না। দলের এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করে বলা হয়, দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজে সংঘটিত ভয়ঙ্কর অপরাধ নিয়ে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্র যে মন্তব্য করেছেন, তা তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, এই মন্তব্যগুলির সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই এবং দল এই বক্তব্যগুলিকে তীব্রভাবে নিন্দা করে। এই মতামতগুলি কোনওভাবেই দলের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।

খোলাখুলি আপত্তি জানান কল্যাণ

ঠিক এরপরেই তেলেবেগুণে চটে যান শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। তৃণমূলের সেই পোস্ট নিয়ে খোলাখুলি আপত্তি জানান কল্যাণ। কল্যাণ বলেন, এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলের পোস্টের সঙ্গে তিনি একেবারেই একমত নন। তাঁরা কি পরোক্ষে সেই নেতাদেরই সমর্থন করছেন, যাঁরা অপরাধীদের আড়াল করছেন? কল্যাণের কথায়, শুধু একাডেমিক বা তাত্ত্বিক বক্তব্য দিয়ে বাস্তবে কোনও পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, যদি না অবিলম্বে সেইসব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাঁরা সরাসরি দায়ী। এক কথায় বলা ভাল, তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। কল্যাণ এর পর যে কথাটি বলেন তা বিতর্কে ইন্ধন জোগাতে যথেষ্ট। তিনি বলেন, “সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল, ২০১১ সালের পর যাঁরা নেতৃত্বে এসেছেন, তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ এমন সব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগের মুখে পড়েছেন।

মদনের বক্তব্য

এদিকে, দলের বক্তব্য আসতেই আসরে নামেন মদনও। মদনের দাবি, দোষীদের আড়াল করতে তিনি কোনও কথা বলেলনি। তাঁর বক্তব্যের ভুল বয়ান করা হচ্ছে। সেটা যাঁরা করছে তাঁরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়। প্রয়োজনে তাঁর বক্তব্যের সঠিক’ ব্যাখ্যার স্বার্থে তিনি যে কোনওরকম তদন্তের মুখোমুখি হতেও যে প্রস্তুত তা তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন। তবে এখানেই কাজিয়া শেষ নয়, কল্যাণ-মদনের এই মন্তব্য নিয়ে যখন তীব্র বিতর্ক, তখনই নিজের দলের নেতাদেরই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

মহুয়ার পোস্ট

শনিবার এক্স-এ মহুয়া লেখেন, ভারতে নারী বিদ্বেষ সব রাজনৈতিক দলেই আছে। কিন্তু @AITCofficial-এর যা আলাদা করে, তা হল—যেই হোক না কেন, এমন জঘন্য মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খোলে। তিনি এই মন্তব্য করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেই পোস্টকে উদ্ধৃত করে, যেখানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্রর মন্তব্য থেকে দল নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনার ধারাবাহিকতা থেকে দুটি বিষয় অন্যন্য স্পষ্ট। এক, কংগ্রেসি ঘরানার রাজনীতিতে দলের সঙ্গে এরকম খোলাখুলি মতান্তর নতুন নয়। বরং এটা চিরাচরিত সংস্কৃতি। এর মধ্যে একটা গণতান্ত্রিক ব্যাপার রয়েছে।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি হল, তৃণমূলে চলতি সেই পুরনো দ্বন্দ্ব—নবীন বনাম প্রবীণ এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কিছু প্রবীণ নেতা মনে করেন, ২০১১ সালের পর যাঁরা দলে এসেছেন তাঁদের অনেকেই সুবিধাবাদী, দলের প্রতি নিষ্ঠাবান নন, দুর্নীতিপরায়ণ এবং উচ্ছৃশঙ্খল। আরও একটি বিষয় এখানে নজরে রাখার মতোই। তৃণমূলের এক্স হ্যান্ডেল আই-প্যাকই পরিচালনা করে। এবং দলের মধ্যে অনেকের ধারণা হল, আই প্যাক মানেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে গোটা ব্যাপারটা কি এখন অভিষেক বনাম কল্যাণ হয়ে গেল! এই পর্ব এখানেই তাই শেষ হবে বলে মনে করা হচ্ছে না। বরং বলা ভাল, ক্রমশ।

About Post Author