সময় কলকাতা ডেস্ক:- পাহাড়ের কোলে সেজে উঠেছে আষাঢ় ১৫ গতে উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি মানুষরা আগামী প্রজন্মকে খাদ্য সুরক্ষা মূল মন্ত্র ছড়িয়ে দিতে চায়। যার ফলে আজকের দিনেই গ্রামীণ কৃষকরা পাহাড়ি কৃষি জমির মধ্যে হালবোয়া থেকে নিয়ে বীজ বপন করে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর মধ্যে দিয়ে মুখরিত হয়ে উঠে।
কালিংপং জেলার বিভিন্ন জায়গা এই অনুষ্ঠান পালিত হয়। তার মধ্যে কালিংপং শহরের বংবস্তি সহ গরু বাথান ব্লকের নিম গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন তুমলাবুং গ্রাম সেজে উঠেছে আষাঢ় ১৫ গতে উৎসবে।
পারম্পরিক ভেসভুসাই সজ্জিত গ্রামীণ মহিলারা মাটির গান গেয়ে প্রকৃতির আরাধনা করে। গ্রামের কচিকাঁচাদের নাচ থেকে নিয়ে, ভলিবল খেলা সহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজিত করা হয়েছিল আজ।
খাওয়ার মধ্যে দুঃখ ছিল দই আর চিড়ে।
এই অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্দেশ্য যেন আগামী বর্ষার মরশুমে পর্যাপ্ত মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয় এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
তাই প্রকৃতিকে খুশি রাখতেই , নানা ধরনের আয়োজন এর মধ্যে দিয়ে আজকের দিন টা উদযাপন করে গ্রামের মানুষরা।
চাষ জমির ক্ষেতের আল থেকে নিয়ে মাটিতে ধানবোয়া সমস্ত কাজই আজকের দিনেই সম্পূর্ণ করে, পাহাড়ি কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষরা।
তাদের বক্তব্য হল, নতুন প্রজন্মের ছেলে ও মেয়েরা কাজের সন্ধানে বিদেশ পাড়ি সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যান। যার ফলে গ্রামীন কৃষির কৃষির প্রচুর ক্ষতি হয়েছে এবং যেখানে খাদ্য সুরক্ষার প্রবল অভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এই প্রজন্মের মানুষরা।
আমরা এই সংস্কৃতিকে বজায় রেখে আগামী দিনে গ্রামে কোনভাবেই খাদ্যাভাব না থাকে , তার জন্যই এই ধরনের গ্রামীণ সংস্কার এবং সংস্কৃতিকে জীবিত রেখে। আজকের দিনে আমরা মাটিতে ধান বোয়া কাজ করছি উৎসবের মধ্যে দিয়ে। আমরা মাটিতে পুজো করে এবং প্রকৃতির প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে আরাধনা করি যেন বর্ষাকালে প্রজাপ্ত মাত্রায় বৃষ্টিপাত হোক।
পাশাপাশি গ্রামীণ শিশু এবং ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে, আজকের এই নান্দনিক অনুষ্ঠান আমরা সকলে মিলে উপভোগ করি।
আমরা চাই এই গ্রামীন সংস্কার এবং সংস্কৃতি আগামী দিনে পর্যটনের শিল্পে সহায়ক হয়ে উঠুক। যার ফলে শহরের যে মানুষরা রয়েছে তারাও আমাদের সাথে, এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির সাথে শহরের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটবে।
তাই আষাঢ় ১৫ই গতে উৎসব, যেন পর্যটনের ছোঁয়া লাগে, এটাই আমরা আশা করি পর্যটন দপ্তরের কাছ থেকে।
এই অনুষ্ঠানে জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। যার মধ্যে শুভঙ্কর চক্রবর্তী বলে ওঠেন যে এই ধরনের অনুষ্ঠান আমাদেরকে প্রত্যেক বছরই অন্তরের টান দেয় এবং আমরা প্রত্যেক বছর এই অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে উপস্থিত হয়ে যায়।
সুতরাং পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে আমি হাজির হয়েছি এই আষাঢ় ১৫ গতে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে।


More Stories
ডিমথেরাপি অশোকনগরের গ্রেফতার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারকে
জেলে জায়গা হবে তো? কৃষ্ণ ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের মাফিয়া নন্দন গ্রেফতার
কালীঘাটে মমতার বাড়ির দোরগোড়ায় সিআইডি