সময় কলকাতা ডেস্ক:- ঘোর বর্ষাতে হঠাৎ জলবসন্ত বা চিকেনপক্স এই বর্ষায় একটু বেশিই মাথাচাড়া দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। ব্যতিক্রমী রি-ইনফেকশন বা পুনঃসংক্রমণের নজিরও রয়েছে এর মধ্যে। পক্সের এই বাড়বাড়ন্তের নেপথ্যে টিকা নিয়ে সচেতনতার অভাবকেই দুষছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের দাবি, শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের শরীরেও থাবা বসাচ্ছে জলবসন্ত। এবং প্রচলিত ধারণা ভেঙে ১০ জনের মধ্যে একজন আক্রান্ত হচ্ছেন দ্বিতীয় বার! তাই ভ্যাকসিনের পক্ষে সওয়াল করছেন ডাক্তাররা।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ১৫ মাস থেকে যে কোনও বয়সে ভ্যারিসেলা ভ্যাকসিন নেওয়া যেতে পারে। প্রথমটির ৩ থেকে ৬ মাসের মাথায় নিতে হয় দ্বিতীয় ডোজ়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রোহিত কাপুর বলেন, ‘ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে পক্সের আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে। যেমন একবার পক্স হলে সাধারণত তা ফের হয় না।’
তা হলে এখন হচ্ছে কী করে? রোহিত অবশ্য মনে করছেন, হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু খুব যে হচ্ছে, তা নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে ‘হ্যান্ড-ফুট-মাউথ’ এবং অন্যান্য কিছু ভাইরাল স্কিন র্যাশকে ভুল করে পক্স বলে চিহ্নিত করছেন কিছু ডাক্তার।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শান্তনু রায় তাই টিকার পক্ষে সওয়াল করে বলেন, ‘যে বয়সই হোক না কেন, পক্স ঠেকাতে ভ্যারিসেলা ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি।’ না হলে সংক্রমণের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া মুশকিল বলে জানাচ্ছেন মাইক্রোবায়োলজি বিশেষজ্ঞ সৌগত ঘোষ।
কারণ, এই রোগ খুবই ছোঁয়াচে। সংক্রামিতের সংস্পর্শে আসা ৯০% ব্যক্তিরই আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। যে কারণে পক্স হয়েছে বলে সন্দেহ হলেই রোগীর আইসোলেশনে থাকা জরুরি। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো, ত্বকে জলফোস্কার মতো র্যাশ বেরোনো।
যে দিন র্যাশ বেরোচ্ছে, সে দিন থেকে দিন সাতেক রোগীর আইসোলেশনে থাকা দরকার। কারণ, তাঁর হাঁচি-কাশি ও নাক-মুখ থেকে নিঃসৃত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জলকণা বা ড্রপলেট এবং ত্বকের র্যাশে থাকা ফ্লুইড থেকেই সংক্রমণটা ছড়ায়। দিন সাতেকের মধ্যে র্যাশ শুকিয়ে ছাল উঠে গেলে রোগ ছড়ানোর ভয় থাকে না।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ সায়ন চক্রবর্তী বলেন, ‘শিশুরা তবু ভ্যাকসিন নেয়। কিন্তু বড়দের মধ্যে পক্সের টিকা নেওয়ায় প্রবল অনীহা, সচেতনতাও কম। অথচ টিকা নিলে পক্সকে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আর রি-ইনফেকশনের নজির সচরাচর দেখা যায় না। কোনও কারণে ইমিউনিটি দুর্বল হলে অবশ্য ফের পক্স হতে পারে।’ তিনি জানান, অন্যান্য বছর বর্ষায় কালেভদ্রে চিকেনপক্সের দেখা মিলত। কিন্তু এ বার সপ্তাহে দু’তিন জন রোগী আসছেন তাঁর কাছে। একই অভিজ্ঞতা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এমনিতে কমবেশি সব বয়সেই পক্স হয় এবং বছরভরই তার নজির মেলে। তবে শীতের শেষ আর বসন্তে সেটা বেশি হয়। নেপথ্যে থাকে ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাস। আর একবার সংক্রামিত হলে ফের পক্সে ভোগার নজির খুব কম।
কারণ, একবার সংক্রমণেই এই ভাইরাসকে চিনে নেয় ইমিউনিটি। যা দ্বিতীয় বার সংক্রমণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলেও বা একবার পক্স হওয়ার পরেও ফের আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ যোগীরাজ রায় জানাচ্ছেন, ১০% ক্ষেত্রে এই পুনঃসংক্রমণ হতে পারে। তবে দ্বিতীয় বার বা টিকা নেওয়ার পরের সংক্রমণ সাধারণত মারাত্মক আকার নেয় না।


More Stories
উত্তর ২৪ পরগনায় আইএসএফ ও তৃণমূল সংঘর্ষ, জখম একাধিক কর্মী
উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টির তান্ডবে ধুয়ে গেল ভারত-চীন সেতু!
উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের রক্তদান শিবিরে তুমুল উত্তেজনা! মঞ্চেই দুই গোষ্ঠীর চেয়ার ছোড়াছুড়ি