Home » এবার ছত্তিশগড়েও বাঙালি নির্যাতন! ৯ শ্রমিককে বেআইনিভাবে গ্রেফতার, গ্রেফতারির অভিযোগে সরব মহুয়া মৈত্র

এবার ছত্তিশগড়েও বাঙালি নির্যাতন! ৯ শ্রমিককে বেআইনিভাবে গ্রেফতার, গ্রেফতারির অভিযোগে সরব মহুয়া মৈত্র

সময় কলকাতা ডেস্ক:- দিল্লি-ওড়িশার পর এবার ছত্তিশগড়। ৯ শ্রমিককে বেআইনিভাবে গ্রেফতারের অভিযোগ। বেশ কয়েকদিন আগে রাজস্থানে অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ জন বাঙালি ভাষাভাষী নাগরিককে আটক করার কথা প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে রাখা হচ্ছে।

তবে শুধু রাজস্থানই নয়, তালিকায় ছিল বিজেপি শাসিত রাজ্য ওড়িশা সহ একাধিক রাজ্যও। এই ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে সরব হয়েছিলেন। মমতা বলেছিলেন, বাংলা ভাষায় কথা বললেই কি অপরাধ? তাহলে বলে দেওয়া হোক, বাংলা ভাষা নিষিদ্ধ।

র কিছুদিন পরেই জানা গিয়েছিল, নদিয়ার ২৩ জন শ্রমিককে বেআইনিভাবে আটকে রেখেছে ওড়িশা পুলিশ! আর তা কানে আসতেই সরব নদিয়ার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁদের অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে বিজেপি সরকারকে নিশানা করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

এবার সেই একই অভিযোগ। তবে এবার শিরোনামে ছত্তিশগড়। এবার ছত্তিশগড়েও বাঙালি নিপীড়ন! কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, ছত্তিশগড়ে কাজ করতে যাওয়া ৯ জন বাঙালিকে জোর করে আটকে রেখেছে সেরাজ্যের পুলিশ। যথাযথ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ৯ বাঙালি শ্রমিককে জেলে রাখা হয়েছে বলেই অভিযোগ সাংসদের।

তিনি জানান, তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের ৯ জন বাসিন্দা ছত্তিশগড়ের কোন্দগাঁও জেলার একটি স্কুলে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু গত শনিবার আচমকাই ছত্তিশগড়ের বাসস্থান থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও জেলে বন্দি রাখা হয় ৯ বাঙালি শ্রমিককে। তাঁদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয় ফলে পরিবারের সদস্যরাও যোগাযোগ করে পারেননি। জানা যায়নি ওই ৯ শ্রমিক আদৌ কোথায় রয়েছেন। গোটা বিষয়টিকে সরকারি মদতপুষ্ট অপহরণ বলে তোপ দেগেছেন মহুয়া।

স্থানীয় পুলিশ সুপার মহুয়াকে জানিয়েছেন, বাঙালিদের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই যেভাবে আটকে রাখা হয়েছে ৯ জনকে, সেই বিষয়টি উল্লেখ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।

দেশজুড়ে চলছে বাঙালিদের উপর নির্যাতন। বিশেষত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাঙালিদের। ওড়িশা, দিল্লির জয়হিন্দ কলোনি থেকে শুরু করে একাধিক রাজ্যে লাগাতার বাঙালিদের হেনস্তার অভিযোগ উঠছে। বাংলা বললেই নাকি অত্যাচারিত হতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। যদিও, গেরুয়া শিবিরের নেতারা বারবার হেনস্থার অভিযোগ মানতে অস্বীকার করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তো একধাপ এগিয়ে আটক শ্রমিকদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুও টেনে এনেছেন।

আসলে ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের। তাঁদের প্রশ্ন, আদৌ কি প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছে, নাকি শুধুমাত্র ভাষা বা পরিচয়ের ভিত্তিতে এই শ্রমিকদের নিশানা করা হচ্ছে? ‘পুশব্যাকে’র ষড়যন্ত্র নয় তো? দিন কয়েক আগে এক্স হ্যান্ডেলে এবিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঙালি হেনস্তার প্রতিবাদে পথেও নামছেন তিনি। সেই মিছিলের ঘোষণা হওয়ার পরেই প্রকাশ্যে এল ছত্তিশগড়ে বাঙালি নির্যাতনের ঘটনা।

About Post Author