Home » চিনের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকে জয়শঙ্কর, গালওয়ান-স্মৃতি পিছনে ফেলে কী কথা হল দু’জনের মধ্যে?

চিনের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকে জয়শঙ্কর, গালওয়ান-স্মৃতি পিছনে ফেলে কী কথা হল দু’জনের মধ্যে?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- প্রায় পাঁচ বছর পর বেজিংয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে দেখা করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। চিন প্রভাবিত রাষ্ট্রজোট শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে চিনে গিয়েছেন জয়শঙ্কর। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যতায় ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারতের বিদেশমন্ত্রী চিনে গেলেন। এসসিও গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার সকালে জয়শঙ্কর জিনপিঙের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষের পর এই প্রথমবার এত উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ হল দু’-দেশের মধ্যে।

জিনপিংয়ের সাথে দেখা করে এক্স হ্যান্ডেলে জয়শঙ্কর লেখেন, মঙ্গলবার সকালে বেজিংয়ে প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সাথে দেখা করেন তিনি।

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছেন তাঁকে। পাশাপাশি, ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও তাঁকে জানিয়েছেন। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দিশা-নির্দেশকে দুই দেশ গুরুত্ব দেয়। সোমবারই চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান ঝেংয়ের সাথে বৈঠক করেছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সেই বৈঠকে পারস্পরিক আলোচনা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়ার কথা বলে দু’পক্ষ। ২০২৪-এর অক্টোবর মাসে কাজ়ানে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং জিনপিংয়ের মধ্যে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন জয়শঙ্কর এবং হ্যান ঝেং।

এই সফরেই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে জয়শঙ্করের। ২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন জওয়ান শহিদ হন। তারপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ শীতল হয়ে পড়েছিল। সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থান থেকে ভারত এবং চিনের সেনা অনেকটা সরে এলেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের কালো মেঘ পুরোপুরি কাটেনি। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় সরাসরি পাকিস্তানকে সাহায্য করার অভিযোগও উঠেছে চিনের বিরুদ্ধে।

তা ছাড়া তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মের গুরু দলাই লামার উত্তরাধিকার নিয়ে চিন যে ভাবে প্রায় প্রতি দিনই হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তাতে নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কের ফের অবনতি হতে পারে।

পাকিস্তান এবং চিনের ‘সখ্য’ নিয়ে সম্প্রতি বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘সার্ক’ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় বিকল্প জোট তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে ইসলামাবাদ এবং বেজিং।

এর মাঝেই জয়শঙ্করের চিন সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘদিন পর এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

About Post Author