Home » ভারতবর্ষের প্রথম ডিজিটাল নোমাড গ্রাম সিকিমে। যেখানে সহজেই পাওয়া যাবে কর্মব্যস্ততা থেকে নিস্তার

ভারতবর্ষের প্রথম ডিজিটাল নোমাড গ্রাম সিকিমে। যেখানে সহজেই পাওয়া যাবে কর্মব্যস্ততা থেকে নিস্তার

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভারতবর্ষের প্রথম ডিজিটাল নোমাড গ্রাম সিকিমে। সিকিমের প্যাকইউং জেলার ইয়াকতেন গ্রামটি এখন ডিজিটাল নোমাড। সিকিম সরকারের তরফে যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়ে গেল শুক্রবার।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যা ও প্রতিযোগিতার দৌড়ে বর্তমানে মানুষ কর্মজীবনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে মানুষ একটু ব্যস্ততা কাটিয়ে কিছুটা নিস্তব্ধ নিরিবিলি জায়গার খোঁজে পাগল হয়ে থাকে। কিন্তু কর্মব্যস্ততা মানবজীবনকে এত কাঠখোর পোড়াতে বাধ্য করে যে মানুষের সেই সময়টুকুও হয়ে ওঠেনা। তবে এবার সমস্যার কিছুটা সমাধান মিললেও মিলতে পারে সিকিম প্রশাসনের এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে।

ভারতবর্ষে এই প্রথমবার, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাঙ্গের বিশেষ উদ্যোগে সিকিমের প্যাকইউং ছোট্ট গ্রাম ইয়াকতেনকে ডিজিটাল নোমাড হিসাবে ঘোষনা করল সরকার। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিকিমের প্যাকইউং জেলার ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর আগবাণী রমেশ আগারওয়াল, স্থানীয় বিধায়ক পামেন লেপচা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের একাধিক আধিকারিকরা।

কীভাবে পৌঁছাবেন এই গ্রামে খুব সহজে?

তবে তা জেনে নেওয়া যাক, উত্তরবঙ্গের শহর শিলিগুড়ি থেকে যেকোনও গাড়ি করে প্যাকইউং বাজার পৌঁছাতে হবে। আর বাজার পৌঁছাতেই সেখান থেকে যেকোনও ছোট গাড়িতে করে অনায়াসে পৌঁছে যাওয়া যাবে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই গ্রামটিতে।

সিকিম সরকার মনে করছে, এর ফলে একদিকে যেমন পর্যটন শিল্পের জোয়ার নামবে। পাশাপাশি গোটা বিশ্বের কাছে সিকিমের এই অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশেষ এক উদাহরণ হয়ে থাকবে। গ্রাম্য পরিবেশের গ্রামের মানুষজনের কৃষ্টি সংস্কৃতি কালচার সম্পর্কে অবগত হবে পর্যটকেরা। একেবারে গ্রাউন্ড লেভেল থেকে গ্রাম্য পরিবেশের এই ঐতিহ্যকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজনের তৈরি ট্র্যাডিশনাল খাবারের স্বাদ নিতে পারবে।

তবে প্রশাসনের তরফে দাবী করা হয়েছে, শুধু পর্যটন শিল্পের সুদূর প্রসারের লক্ষ্যেই নয় বরঞ্চ এই ছোট্ট গ্রামটিকে ডিজিটাল ভাবনায় তৈরি করা এক অনন্য লক্ষ্যমাত্রা সিকিম সরকারের। এখন অনায়াসে গ্রামে মিলবে হাই স্পিড ইন্টারনেট কানেকশন। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য সমস্ত রকমের সাধারণ পরিষেবা প্রযোজ্য থাকবে। পাহাড়ের কোলে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল লাগাওয়া এই গ্রামে যে কোনও পর্যটক অনায়াসেই ছুটি কাটানোর পাশাপাশি ইন্টারনেট পরিষেবার মাধ্যমে সমস্ত রকমের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।

প্রসঙ্গত, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য হল এক পরিবারের একজন উদ্যোক্তা হবে। সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতেই বর্তমানে এই পর্যটন শিল্পে জোর দিয়েছে সিকিম প্রশাসন। যার একমাত্র লক্ষ্য ও অঙ্গ হিসেবে সিকিম প্রশাসন এই গ্রামকে বেছে নিয়েছে। সিকিম প্রশাসন তৎপর রয়েছে এই গ্রামকে গোটা বিশ্বের সঙ্গে পরিচিতি আনিয়ে দিতে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা গেছে, ছোট্ট এই গ্রামটির প্রত্যেকটি পরিবার তাদের জীবন জীবিকা চালায় তাদের নিজ বাসস্থানকে হোমস্টে বানিয়ে। সিকিম সরকারের এই উদ্যোগে গোটা গ্রামে পর্যটন শিল্প আরও ফুলে ফেঁপে উঠবে বলেই দাবি গ্রামবাসীদের।

About Post Author