সময় কলকাতা ডেস্ক:- উপ-রাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের আচমকা ইস্তফা নিয়ে যেন রহস্যের চাদর মুড়ে ফেলেছে রাজধানী দিল্লিকে। বা বলা ভাল জাতীয় রাজনীতিকে। কারণ অনেকেই অনেক কিছু মেলাতে পারছেন না। স্বাধীন ভারতে যা বেনজির ঘটনা। কেননা এ যাবৎ কোনও উপ-রাষ্ট্রপতিই মধ্য-মেয়াদে হঠাৎ করে ইস্তফা দেননি। আর এরকম নাটকীয় ঘটনাও ঘটেনি। সোমবার ২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ স্মরণের সভা নিয়ে দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি। বলা ভালো জাতীয় রাজনীতিও। সেসবের মাঝেই ঘটে যায় আরেক কাণ্ড। রাতে হঠাৎ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মকে একটি চিঠি পাঠান বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ওই চিঠিটিই ছিল উপ-রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তাঁর ইস্তফা পত্র।
চিঠিতে ধনকড় লেখেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। মঙ্গলবার তা গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মূলত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েই পদ ছাড়েন ধনকড়। এই অবস্থায় তাঁর সুস্থতা কামনা করে অবসর জীবনের জন্য প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাত্র দু লাইনের একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, জগদীপ ধনকড় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে দেশের সেবা করার বহু সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতির পদও রয়েছে। তাঁর সুস্বাস্থ্যের কামনা করেন মোদি।
মোদি যেভাবে বলেছেন যে ‘বহু সুযোহ পেয়েছেন’, তাতেই সাউথ ব্লকের সঙ্গে ধনকড়ের সংঘাতের ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে এটা কার্যত স্পষ্ট। আরও মজার ঘটনা হল, সোমবার বিকেল ৩ টে বেজে ৫৩ মিনিটে তাঁর সচিবালয় থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, ২৩ জুলাই দুদিনের জন্য জয়পুর সফরে যাবেন উপ রাষ্ট্রপতি। এটা খুবই স্বাভাবিক যে ধনকড়ের অনুমতি ছাড়া তাঁর সচিবালয়ের পক্ষে এই প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ বিকেল ৪টে পর্যন্তও ঠিক ছিল তিনি উপ রাষ্ট্রপতি হিসাবে জয়পুরে যাবেন। তারপরেই দেখা যায় তাঁর এই ইস্তফা।
জাতীয় রাজনীতির তাই অনেকেই মনে করছেন, হয়তো সন্ধের পর এমন কিছু ঘটেছে যার ফলে তিনি ইস্তফা দিলেন বা দিতে বাধ্য হলেন।
তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হল, সোমবার বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির প্রথম বৈঠকটি হয় দুপুর সাড়ে ১২টায়। সেখানে নাড্ডা এবং রিজিজু দু’জনেই ছিলেন। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৪টেয় ফের বৈঠক হলে সেখানে হাজির হননি দুই মন্ত্রী। নইলে এমন তো হতে পারে না যে সন্ধের পর তাঁর শরীর খারাপ হল আর ধনকড় ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন! আর সেই সন্দেহই প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। ধনকড়ের ইস্তফাকে অবাক করা ও ব্যাখ্যাতীত বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।
জয়রাম বলেন, সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ তিনি এবং আরও কিছু সাংসদ উপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। এমনকি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টাতেও ফোনে কথা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পদত্যাগের খবর! এই অপ্রত্যাশিত পদত্যাগের পেছনে আরও কিছু বিষয় রয়েছে—এটা স্পষ্ট। জয়রাম রমেশ আরও বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১টায় সংসদের ব্যবসা উপদেষ্টা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়। তা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসাবে জগদীপ ধনকড়ই ডেকেছিলেন। বিচারব্যবস্থাকে নিয়ে কিছু বড় ঘোষণা করার কথাও ছিল তাঁর। সেসবের মাঝেই তাঁর এই আচমকা সরে দাঁড়ানো আরও বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছে।
কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদকের কথায়, জগদীপ ধনকড় সরকার ও বিরোধীপক্ষ—দু’পক্ষকেই কঠোরভাবে দায়বদ্ধ রাখতে চেয়েছেন।
তবে জয়রামের আবেদন, তিনি যেন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীকেও অনুরোধ করেন, জাতীয় স্বার্থে তাঁকে এই সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো হোক। বিশেষত কৃষকসমাজ এই সিদ্ধান্ত বদলে স্বস্তি পাবে। আচমকা এভাবে ইস্তফার ঘটনায় চর্চা শুরু শাসক-বিরোধী দুই শিবিরেই।
শাসক-বিরোধী তর্জার মাঝেই মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
যদিও, গোটা ব্যাপারটাকেই সন্দেহের আতশকাচের নীচে ফেলে দেখছে বিরোধী শিবির। শারীরিক অসুস্থতার তত্ত্ব মানতে নারাজ তারা। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিন্তু স্বাভাবিক রয়েছেন। ১৯৫১ সালের ১৮ মে রাজস্থানের ঝুনঝুনুতে জন্ম ধনকড়ের। ছিলেন বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল। সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত লোকসভার সদস্য ছিলেন। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে তিনি উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মাত্র ৩৪৬ ভোটে বিরোধী শিবিরের প্রার্থী মার্গারেট আলভাকে তিনি পরাজিত করেন।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?