Home » দিল্লির জয় হিন্দ কলোনিতে ‘বাঙালি উচ্ছেদে’ স্থগিতাদেশ দিল আদালত! ‘বিজেপিকে যোগ্য জবাব’, বলছে তৃণমূল

দিল্লির জয় হিন্দ কলোনিতে ‘বাঙালি উচ্ছেদে’ স্থগিতাদেশ দিল আদালত! ‘বিজেপিকে যোগ্য জবাব’, বলছে তৃণমূল

সময় কলকাতা ডেস্ক:- আইনি লড়াইয়ে স্বস্তি। দিল্লির জয় হিন্দ কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ দিল দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট। আদালতের এই নির্দেশকে বিজেপির ‘বাঙালি বিরোধী’ আগ্রাসনের যোগ্য জবাব হিসাবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস।

দিল্লির বসন্তকুঞ্জের জয় হিন্দ কলোনি। এক টুকরো বাঙালি পাড়া। একপ্রকার ‘মিনি বাংলা’। আপাতত অস্তিত্বের সংকটে ভুগছেন এখানকার বাংলাভাষীরা। ক্রমাগত উচ্ছেদের হুমকি, জল-বিদ্যুৎ বন্ধ। সমস্যায় জর্জরিত বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার তাঁদের হয়ে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের প্রতিনিধিদলও ওই এলাকায় গিয়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে এসেছে। দরকারে বাসিন্দাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানায় রাজ্যের শাসকদল। সেখানকার বাংলাভাষীদের নিয়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য ধর্ণায়ও বসেছিলেন তাঁরা।

সংসদেও বিষয়টি তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

জয়হিন্দ কলোনিতে বসবাসকারী বাংলাভাষীদের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে।

তাঁরা বলেন, কয়েকমাস আগে দিল্লি পুলিশ ওই কলোনিতে বসবাসকারী সবার পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখেছিল। তখন কোনও বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা পাওয়া যায়নি। আসলে বসন্তকুঞ্জের ওই এলাকার জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ। ২০২৪ সালে ওই এলাকা থেকে বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লির এক আদালত।

অভিযোগ, বেআইনিভাবে এলাকায় বসবাস করছেন স্থানীয়রা। আদালতের সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু ওই এলাকার বাসিন্দারা পাল্টা আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই মামলাতেই স্বস্তি পেলেন বাসিন্দারা।

আদালত জানিয়ে দিল, ওই এলাকায় আপাতত উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সে খবর পোস্ট করে বিজেপিকে বিঁধেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দাবি করা হল, দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টের এই স্থগিতাদেশ সুবিচারের পথে এটা বিরাট পদক্ষেপ।

আদালতের নির্দেশের কথা এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন সাগরিক ঘোষও।

তিনি লেখেন, প্রত্যেক বাংলাভাষী ভারতীয়র ন্যায়ের জন্য তৃণমূলের এই লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ এই স্থগিতাদেশ। বাংলা ও বাংলাভাষীদের ‘টার্গেট’ করে কেন্দ্র ও বিজেপি সফল হবে না বলে তিনি লেখেন। বাংলার শাসক দলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রত্যেক বাংলাভাষীকে রক্ষা করা হবে।

তৃণমূলের বার্তা, বাংলা ভাষীদের বিরুদ্ধে যে কোনও ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হবে। বাংলাভাষী ভারতীয়দের সম্মান, স্বীকৃতি এবং সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে লড়াই চলবে।

তৃণমূল বলছে, আদালতের এই রায় ‘বাংলা বিরোধী’ বিজেপিকে যোগ্য জবাব। ভিনরাজ্যে বাংলাভাষী ভারতীয়দের হেনস্থার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই চলবে বলে জানিয়েছে তৃণমূল।

About Post Author