Home » কোনও শরিক দল নয় পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি হবেন বিজেপি থেকেই!

কোনও শরিক দল নয় পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি হবেন বিজেপি থেকেই!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের আচমকা ইস্তফা নিয়ে যেন রহস্যের চাদর মুড়ে ফেলেছে রাজধানী দিল্লিকে। বা বলা ভাল জাতীয় রাজনীতিকে। কারণ অনেকেই অনেক কিছু মেলাতে পারছেন না। স্বাধীন ভারতে যা বেনজির ঘটনা। কেননা এ যাবৎ কোনও উপ রাষ্ট্রপতিই মধ্যমেয়াদে হঠাৎ করে ইস্তফা দেননি। আর এরকম নাটকীয় ঘটনাও ঘটেনি।

তবে উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের আচমকা ইস্তফার পর এখন মূল প্রশ্ন দুটি।

এক – পদত্যাগের আসল কারণ কী?

আর দুই – পরবর্তী উপ রাষ্ট্রপতি কে হবেন?

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল, সব জায়গায় এই আলোচনা চলছে।

তবে সূত্র বলছে, নতুন উপ রাষ্ট্রপতি নিয়ে ইতিমধ্যে অঙ্ক কষতে শুরু করেছে বিজেপি। প্রথম দিকে জল্পনা ছিল, এনডিএ-র কোনও বর্ষীয়ান শরিক নেতা এই পদের দায়িত্ব পেতে পারেন।

কিন্তু ইঙ্গিত মিলছে — কোনও শরিক নেতা নয়, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কেউই নতুন উপ রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন।

সূত্রের খবর, উপ রাষ্ট্রপতির মতো গুরুদায়িত্বে এমন কাউকে বসানো হবে, যিনি সরাসরি বিজেপির মূল ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, বিজেপির আস্থাভাজন এবং ঘনিষ্ঠ নেতা। আসলে, জোট রাজনীতিতে শরিকদের খুশি করার জন্য ওই পদটি কোনও শরিক দলকে উপহার দিতে পারে বিজেপি। রাজধানীর অলিন্দে দু’দিন ধরেই এ নিয়ে জল্পনা চলছে।

এর আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছিল রাজ্যসভার বর্তমান ডেপুটি স্পিকার হরিবংশ নারায়ণ সিংয়ের নাম। কোনও কোনও মহল থেকে ভাসানো হচ্ছিল নীতীশ কুমারের নামও। আবার বর্ষীয়ান জেডিইউ নেতা রাম নাথ ঠাকুরের নামও ভেসে আসছিল কোনও কোনও মহল থেকে। সবটাই বিহার ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখে।

কিন্তু বিজেপির অন্দরমহলের খবর, রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শরিকদের হাতে ছাড়তে রাজি নয় দল। কারণ সংসদীয় রাজনীতিতে এই পদ অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। এদিকে সংবিধান অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতি পদ খালি রাখা যায় না। তাই দ্রুত নির্বাচন করতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বুধবারই নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শীঘ্রই দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটে অংশ নেওয়া সাংসদদের নিয়ে ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ গঠন করা হচ্ছে। লোকসভা ও রাজ্যসভার নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যদের নিয়েই গঠিত হয় এই ভোটার তালিকা। রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার নির্ধারণ নিয়েও কাজ চলছে। একইসাথে অতীতের ভোটপ্রক্রিয়ার রেফারেন্স খতিয়ে দেখছে কমিশন।

সুতরাং, সবদিক মিলিয়ে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ফের জমে উঠছে দিল্লির রাজনীতি। এবার দেখার, বিজেপি কাকে বেছে নেয় উপ রাষ্ট্রপতি পদের জন্য।

About Post Author