পুরন্দর চক্রবর্তী,সময়কলকাতা :বিশাল অট্টালিকার পরতে পরতে ইতিহাস। অথচ জরাজীর্ণ ঐতিহাসিক অট্টালিকা থেকে খসে পড়ছে পুরোনো পলেস্তারা আর ইট বালি। হেরিটেজের স্বীকৃতি পাওয়া বহু অতীত ইতিহাসের সাক্ষী বারাসাতের বুকে ওয়ারেন হেস্টিংসের স্মৃতি বিজড়িত ভিলা-যা হেস্টিংস ভিলা বা হেস্টিংস হাউস নামে পরিচিত ঐতিহাসিক ভবন আজ ধুঁকছে সংস্কারের অভাবে।সংরক্ষণ আর সংস্কারের দোলাচলে হেস্টিংস হাউস।
Discover Trade Vector AI, the AI-powered platform for trading crypto, Forex, CFDs, and stocks. https://tradevectoraicanada.com
ওয়ারেন হেস্টিংস নামের সাথে জড়িয়ে আছে অনেক ইতিহাস। ভারতে ব্রিটিশ রাজ কায়েম হওয়ার পেছনে রবার্ট ক্লাইভের পাশাপাশি তাঁর ভূমিকা অন্যতম। তিনি ছিলেন তৎকালীন ফোর্ট উইলিয়াম বা বাংলার প্রথম গভর্নর। অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে তিনি বারাসাতে থাকার জন্য একটি অট্টালিকা তৈরী করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া শাসনের শেষে হেস্টিংসের গৃহকে কালেক্টর অফিসে পরিণত করা হয়েছিল যা সাহিত্য সম্রাট এবং সেসময় ডেপুটি কালেক্টর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কর্মস্থল ছিল। কালের নিয়মে সেই অট্টালিকা ভেঙ্গে পড়তে থাকে। হালে ইতিহাস বিজড়িত হেস্টিংস হাউস হেরিটেজের স্বীকৃতি পায়। তথাপি গত পাঁচ বছরে নবীকরণের কাজ হয়েছে সামান্য। থমকে দাড়িয়ে আছে সংস্কার। নতুন করে ভেঙ্গে পড়তে আরম্ভ করেছে হেস্টিংস হাউস । বিপজ্জনক বাড়ির তকমা পাওয়া হেরিটেজ ভবনে প্রবেশের দ্বার বন্ধ। আসেন না দর্শণার্থীরা। কাছে গেলে পাছে আহত হতে হয় তাই ধারে কাছে যেতে সাহস পান না স্থানীয়রা। যা হতে পারত ইতিহাস প্রেমীদের কাছে একটি দর্শনীয় স্থান, রক্ষনাবেক্ষণ আর সংস্কারের অভাবে তা এখনও অতীতের এক ভগ্নাবশেষ হয়েই পড়ে আছে।
বর্তমানে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলাশাসকের কার্যালয়ের থেকে অনতিদুরে ওয়ারেন হেস্টিংসের থাকার জন্য প্রমোদ উদ্যানের কেন্দ্রে থাকা এই বাসভবনটি তৈরী হয়েছিল হেস্টিংস ফোর্ট উইলিয়াম বা বাংলার গভর্নর থাকার সময়ে। ঐতিহাসিকরা মনে করেন ১৭৭২ থেকে ১৭৮৫ র মধ্যে। ওক কাঠে তৈরী কাঠের ফ্রেম ও রেলিং ভেঙ্গে পড়ছে। আটটি ঘর থাকলেও প্রবেশাধিকার নেই সাধারণের। নাচ ঘর বা শয়নঘর সহ হেস্টিংস হাউস যা ইতিহাসপ্রেমীদের ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার বিষয় হতে পারত, তা হেরিটেজের দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় আধিকারিকদের উদাসীনতার নিদর্শন। আম বারাসাতবাসী বা ইতিহাস গবেষক বা স্থানীয় প্রশাসন কায়মনোবাক্যে চাইছেন ফেলে না রেখে এবার দ্রুততার সঙ্গে সংস্কার হোক। নাহলে কালের গর্ভে চলে যেতে পারে হেরিটেজ-ভবন হেস্টিংস হাউস। কারণ মাঝেমধ্যেই পুরোনো কাঠ আর ইঁট খসে পড়ছে বিপজ্জনক ভাবে। গত পাঁচবছরে বার দুয়েক কাজে হাত পড়লেও থেমে থাকা সংস্কার ইতিহাসপ্রেমীদের মনে আশংকার জন্ম দিচ্ছে।কালের গর্ভে বিলীন হবে না তো ইতিহাসের সাক্ষী হেস্টিংস হাউস?সময় পাল্টেছে, পাল্টেছে শাসক দল, পাল্টায় নি অবস্থা। হেস্টিংস হাউস রয়েছে হেস্টিংস হাউসেই। ইতিহ্য পড়ে রয়েছে আশা আশঙ্কার দোলাচলে।


More Stories
মৌলবাদের ভ্রূকুটি পেছনে ফেলে কলকাতায় তসলিমা নাসরিন
মহানায়ক উত্তম কুমার : জন্মদিনের চেয়ে মৃত্যুর দিনটি মানুষ মনে রেখেছেন, কিন্তু কেন?
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস