সময় কলকাতা ডেস্ক : ফের নক্ষত্র পতন। চলে গেলেন বাংলা ফুটবলের আরও এক নক্ষত্র সুরজিৎ সেনগুপ্ত ।গত ২৪ শে জানুয়ারি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন সুরজিৎ সেনগুপ্ত। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শেষের দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আজ চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে জীবন যুদ্ধের দৌড় থেমে গেল উইঙ্গারের। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। খিদিরপুর ক্লাবের হয়ে প্রথম ফুটবল জীবন শুরু করার পর কলকাতার তিন প্রধান ক্লাবেই তিনি সুনামের সঙ্গে খেলেছিলেন।
১৯৫১ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কলকাতার বড় ক্লাব মোহনবাগানে ছিলেন ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত, দু’বছর ছিলেন তিনি।
১৯৭৪ সালে ইস্টবেঙ্গলে যান সুরজিৎ। সেই থেকে টানা ছ’বছর লাল-হলুদের জার্সি গায়ে খেলেন তিনি।মহমেডানে সই করেন ১৯৮০ সালে । পরের বছর ফের মোহনবাগানে চলে আসেন তিনি।সেখানে তিন বছর খেলেন সুরজিৎ। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত দেশের হয়ে খেলেছেন তিনি। সন্তোষ ট্রফিতে বাংলার অধিনায়ক হন ১৯৭৬ সালে। ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগান বা মহামেডান যেখানেই খেলুন তিনি সুদর্শন এই ফুটবলার ছিলেন বিপক্ষের ত্রাস। উইং ধরে দলের বহু আক্রমণ তিনি রচনা করতেন। দেশের হয়েও তিনি সবুজ ঘাসে ফুল ফুটিয়েছেন।বল যেমন তাঁর পায়ে কথা বলত তেমন লেখার হাতও তাঁর ছিল চমৎকার,তিনি একাধিক পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন।
সুরজিৎ সেনগুপ্ত তাঁর দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের জন্য খ্যাত ছিলেন।তিনি না থাকলেও তাঁর খেলা যারা দেখেছেন তাঁদের চোখে লেগে থাকবে সুরজিৎ সেনগুপ্তর ফুটবলের নান্দনিক দিক। প্রকৃত অর্থে কৃষানু দের উত্তরসূরী ছিলেন তিনি। সুরজিৎ সেনগুপ্তর খেলা দেখতে,মাঠে তাঁর শিল্প দেখতে মাইলের পর মাইল হেঁটে যাওয়া যেত।সুরজিৎ সেনগুপ্তের প্রস্থান একটি অধ্যায়ের অবসান।
আরও পড়ুন : ক্রীড়া জগতে নক্ষত্রপতন, চলে গেলেন ময়দানের ভোম্বল দা


More Stories
পাকিস্তানকে ধ্বংস করল ভারতের মেয়েরা
হর্ষ – গুরনুরের দুরন্ত অভিষেক, জিতল ভারত
সুভদ্র কেন উইলিয়ামসনের আচমকা অবসর