সময় কলকাতা ডেস্ক : ইয়াসিন গাজী বা তাঁর কর্মকান্ড সম্পর্কে কোনও কথা বলার আগে মনে পড়তে পারে একটি শাশ্বত বাক্যবন্ধ। মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান, মুসলিম তার নয়ন-মণি হিন্দু তাহার প্রাণ…জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে আমরা যে সর্বোপরি মানুষ তার প্রমাণ মিলল আরও একবার।সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।আর এই মানব ধর্মকে প্রকৃত অর্থে পালন করলেন রায়দীঘির ইয়াসিন গাজী। মানুষের জন্য নিজেকে বা নিজের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি দানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে রায়দিঘীতে সম্প্রীতির এক নজির গড়লেন ইয়াসিন গাজী। শ্মশানের জন্য তিনি প্রায় ১২ কাঠা জমিদান করেন। ঘটনাটি রায়দিঘীর দমকল এলাকায়।

কে এই ইয়াসিন গাজী? তিনি কোনও কেষ্ট বিষ্ট নন, জমিদার ও নন। তিনি সাধারণ একজন মানুষ যাকে প্রভাবিত করে অন্য মানুষের দুঃখ।রায়দিঘীর দমকলের পুরকাইতপাড়ায় ঠাকুরাণ নদীর চড় ভাঙছিল ক্রমশ। আর এই নদীর চরেই করা হত শবদাহ। তবে চর ভাঙতে থাকায় সেই জায়গা ক্রমশ ছোটো হয়ে আসে। কমে যায় পরিসর। তারপর বাঁধের উপর চলত সেই কাজ। বৃষ্টি এলে অসুবিধা হত শবযাত্রীদের।আর এই বিষয় প্রভাবিত করে ইয়াসিন গাজীকে।
ইয়াসিন গাজী সব ধর্মর চেয়ে ওপরে স্থান দেন মানব ধর্মকে।এই সব অসুবিধা দেখে ইয়াসিন গাজী সিদ্ধান্ত নেন তাঁর জমির কিছুটা জায়গা দান করবেন শশ্মানের জন্য। জায়গা দান করার পর সেখানে একটি ছাউনিও বানিয়ে দেন তিনি।
ইয়াসিন গাজী জানান, ‘আমরা হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই। মানুষকে তো কাউকে কবরে যেতে হবে আবার কাউকে শশ্মানে যেতে হবে। তাই দিলাম একটু মানুষের জীবনের শেষ জায়গা।’স্থানীয় মানুষজন আপ্লুত। যদিও ইয়াসিন গাজী মানুষ কী বলবেন বা বলছেন সেদিকে তাকিয়ে জমি দান করেন তা তাঁর বক্তব্যই পরিষ্কার। তাঁর প্রচেষ্টা যেমন বয়ে নিয়ে এসেছে সম্প্রীতির সুবাতাস, তেমনই হিন্দু মুসলিমের পারস্পরিক সৌহার্দ্যের নজির হয়ে থেকেছে শ্মশানের এক খন্ড জমি।।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি