Home » যোদ্ধার খুলি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানকে

যোদ্ধার খুলি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানকে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  পৃথিবীর ইতিহাস ও মানব সভ্যতার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা অনবরত চলছে। কিভাবে পৃথিবী সৃষ্টি হল সেই রহস্য জানার জন্য আজও গবেষণা করে চলেছেন বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা। বিবর্তনবাদের স্রষ্ঠা চার্লস ডারউইন তার তত্ত্বে মিসিং লিঙ্ক এর কথা বলেছিলেন। সেই মিসিং লিঙ্ক এর হদিস না পাওয়া গেলেও মানব ইতিহাসের একাধিক রহস্যের হদিস পাওয়া যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সম্প্রতি তেমনি একটি রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন পুরাতত্ত্ব বিজ্ঞানীরা। ২০০০ বছরের পুরনো এক যোদ্ধার মাথার খুলির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। পুরনো কঙ্কাল অথবা মাথার খুলির অনবরত খোঁজ পাওয়া যায়। মিশরীয় মমির বহুবার সন্ধান মিলেছে পুরাতত্ত্ব বিজ্ঞানীদের খননকার্য চালানোর সময়। দুই হাজার বছরের পুরনো এই উদ্ধার হওয়া মাথার খুলি পাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই পুরাতত্ত্ব বিজ্ঞানীসহ চিকিৎসক মহলের কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ। কিন্তু কেন? এই যোদ্ধার মাথার খুলি ছুঁড়ে দিচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতি এক বড়োসড়ো চ্যালেঞ্জ। পুরাতত্ত্ব বিজ্ঞানীদের মতে পেরুর সেই সময়কার কোন এক যোদ্ধার মাথার খুলি এটি। যে খুলিতে অস্ত্রোপচার করে বসানো হয়েছিল ধাতুর পাত। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন সেই সময় কোন এক যুদ্ধে এই যোদ্ধা গুরুতর আহত হয়েছিলেন, আর সেই সময় চিকিৎসকরা তার মাথার খুলিতে অস্ত্রোপচার করে লাগিয়েছিলেন ধাতুর পাত। পেরুর কথা মনে পড়লেই প্রথমেই উঠে আসে মাচুপিচুর ইনকা সভ্যতার কথা। বিজ্ঞানীদের মতে বিশ্বের সবচেয়ে পুরাতন আধুনিক সভ্যতা ছিল ইনকা সভ্যতা। যারা সেই সময় বিজ্ঞানের দিক থেকেও অনেকটাই ছিল উন্নত। আজও বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু মাচুপিচু। পাহাড়ের চূড়ায় কিভাবে ইনকারা  মাচুপিচু উপত্যাকা তৈরি করেছিল সেটা আজও বিশ্বের বিস্ময়। আজও বহু মানুষ মাচুপিচু উপত্যাকায় খুঁজে বেড়ায় ইনকাদের লুকানো সোনার ভান্ডার। ফলে ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক মহল মনে করছে এই যে যোদ্ধার মাথার খুলি পাওয়া গিয়েছে যার মাথায় অস্ত্রোপচার করে বসানো রয়েছে ধাতব পাত এই যোদ্ধা সম্ভবত ইনকা সভ্যতার কোন যোদ্ধা ছিল। এতদিন খুলিটি জনসম্মুখে আনা হয়নি কিন্তু এবার খুলিটি রাখা হয়েছে ওকলাহোমার মিউজিয়াম অফ অ্যাস্ট্রোলজিতে। আজ থেকে ২০০০ বছর আগে কোন এক যোদ্ধার খুলিতে অস্ত্রোপচার করে ধাতব পাত বসানো এটা আজকের যুগের আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। বহু বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক মহল মনে করে আজ থেকে বহু বছর আগে মিশরীয় সভ্যতাতেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছিল। বিশেষত শল্যচিকিৎসায় সে যুগের বিজ্ঞান ছিল উন্নত। যেমন উন্নত ছিল তারা স্থাপত্য তৈরীতে তেমনি তারা উন্নত ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানেও। আজও পিরামিড সহ মমি তৈরির পদ্ধতির সঠিক পদ্ধতি আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। কিভাবে সেই সময় যখন বিজ্ঞান অনুন্নত, তখন মিশরীয়রা টন টন ওজনের পাথর দিয়ে নির্মাণ করল পিরামিড? এ প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে বেড়াচ্ছেন বিজ্ঞানীরা । বহু মানুষ মনে করেন সেইসময়  মিশরীয়দের সঙ্গে ভিনগ্রহীদের যোগাযোগ ছিল । যাদের সহযোগিতাতেই অ্যান্টি গ্রাভিটি সিস্টেম এর মাধ্যমেই তৈরি করা হয়েছিল পিরামিড।
ভিনগ্রহীদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ নিয়ে একাধিক তথ্য উঠেছে বহুবার। দানিকেন এর লেখা বহু গল্পে তিনি বর্ণনা করেছেন ভিনগ্রহীদের সঙ্গে মানুষের সংযোগের কথা। যেমন নাজকা লাইন, যার রহস্যের উদ্ঘাটন আজও সম্ভব হয়নি। মিশরীয় সভ্যতায় মাটি খননের সময় পাওয়া গিয়েছিল প্লেনের টারম্যাক, কিছু কিছু মানুষের মতে ভিনগ্রহীদের মহাকাশযান নামত সেই সময় এই টারম্যাকে।অনেক আধুনিক বিজ্ঞানীরা মনে করেন মিশরীয় শল্যচিকিৎসার তৎকালীন সময়ে ব্যাপক অগ্রগতি ঘটেছিল। যার প্রতিফলন দেখা যায় মিশরীয় দেব-দেবীদের মধ্যে। শৃগালের মতন মুখ দেবতা আনুবিসের। মিশরীয় সভ্যতায় তৎকালীন সময়ে আনুবিস এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত বেশি। মৃত্যুর দেবতা হিসেবেই পূজিত হতেন আনুবিস। খ্রিস্টপূর্ব ২৫৭৫ থেকে ২১৩০ সাল পর্যন্ত আনুবিস এর প্রতি আনুগত্য ছিল মিশরীয়দের। অর্ধ মানব অর্ধ শৃগালের  মতন দেখতে অনুবিস তখন ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী দেবতা। আরেক দেবতা থোত, যিনি ছিলেন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দেবতা। মানব দেহের উপর সারস পাখি ও বেবুনের মাথা লাগানো এই দেবতার প্রতিকৃতি। তৎকালীন লিখিত পদ্ধতি হিয়ারোগ্নিফিক লিখন পদ্ধতির আবিষ্কারের সঙ্গেও যুক্ত এই দেবতার নাম। বিভিন্ন যাদুবিদ্যা সম্পর্কেও এই দেবতার নাম উচ্চারিত হতো। আরেক দেবতার নাম সেথ, মিশরীয়দের ইতিহাসে দেব দেবীদের মধ্যে সবচেয়ে উশৃংখল এবং হিংস্র দেবতা হিসেবে দুর্নাম ছিল সেথের। এই দেবতার দেহ ছিল মানুষের মতন কিন্তু মাথা ছিল শূকরের মতন নাক, লম্বা কান আর কিছুটা কুকুরের মতো সূচালো। আরেক দেবতা ছিলেন হোরাস, যার দেহ মানুষের মতন হলেও যার মাথাটি ছিল বাজ পাখির মতন। আকাশ যুদ্ধ শিকারের এই দেবতার পিতা ছিল অসিরিস ও মা আইসিস। সবচেয়ে অদ্ভুত সেই সময় মিশরীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ছিল উন্নত। কারণ মিশরীয় পৌরাণিক কাব্য অনুসারে একটি যুদ্ধে সেথ অপর দেবতা হোরাসের বাম চোখ উপড়ে নিয়েছিল এবং সেটি ছয়ভাগে কেটে ফেলে। অদ্ভুত বিস্ময় সেই ৬ টি ভাগের সঙ্গে চন্দ্র ,সূর্য এবং বিভিন্ন নক্ষত্রের মাপজোকের বর্ণনা করেছিলেন মিশরীয়রা। যা আধুনিক বিজ্ঞানীদের কাছে আজও বিস্ময়কর বিষয়। ৬ টি অংশের নিখুঁত মান বর্ণনা করেছিলেন মিশরীয়রা এবং এই ৬ টি অংশের সঙ্গেই মনুষ্য শরীরের ৬ অংশের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন মিশরীয়রা। গন্ধ, দৃষ্টি, চিন্তা, শ্রবণ, স্বাদ এবং স্পর্শ এই ছটি অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল হোরাসের কেটে ফেলা চোখের ৬ টি অংশের। মিশরের সাত দেবদেবীর মধ্যে অধিকাংশের শরীর এক, মাথা পশুপাখিদের। ফলে বহু গবেষকদের মতে তৎকালীন মিশরীয় সভ্যতায় শল্যচিকিৎসার অগ্রগতির নিদর্শন এই দেবদেবীদের শরীরের চিত্র। অর্থাৎ দেবদেবীদের অঙ্গেই শল্যচিকিৎসা করেই দেবদেবীদের রূপ তৈরি হয়েছিল। পুরাকালের বিজ্ঞানের অগ্রগতি হয়েছিল সেটা শুধুমাত্র বিশ্বের বিভিন্ন পুরনো সভ্যতাতেই নয় শল্যচিকিৎসায় উন্নত ছিল ভারতবর্ষও। মূলত পুরাকালে ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রকে বলা হতো আয়ুর্বেদ। আয়ু অর্থাৎ জীবন আর বেদ অর্থাৎ জ্ঞান ।জীবন সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়েই ছিল আয়ুর্বেদ। এই আয়ুর্বেদ কে সাধারণত ৮ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল.। যার মধ্যে প্রধান বিভাগ ছিল শল্য চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার। আর অপর বিভাগ ছিল কায়া চিকিৎসা অর্থাৎ ওষুধ সংক্রান্ত চিকিৎসা। বিশ্বামিত্রের পুত্র ছিলেন সুশ্রুত। যে সুশ্রুতের লেখা সুশ্রুত সংহিতা। খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত ধরা হয় শুশ্রুত সংহিতার সৃষ্টির সময়। ভারতের পুরান সাহিত্যে বারবার শল্যচিকিৎসার উল্লেখ রয়েছে । যেখানে দেখা গিয়েছে কাটা পায়ে লোহার পা বসানোর বর্ণনা। অর্থাৎ বলা যেতে পারে শল্যচিকিৎসায় তৎকালীন সময়ে ভারতবর্ষ ছিল অনেক উন্নত। বিশ্বের যে কোন সভ্যতার সঙ্গে শল্যচিকিৎসা নিয়ে পাল্লা দিতে পারতো ভারতীয় শল্য চিকিৎসকরা। ভারতীয় দেবদেবীর মধ্যেও শল্যচিকিৎসার নিদর্শন পাওয়া যায়। ব্যবসার দেবতা গণেশের ক্ষেত্রে দেখা যায় তার মুন্ডু যখন কাটা পড়ে। সেই সময় হস্তীর মুন্ডু লাগানো হয় গণেশের দেহে।

পেরু এই উদ্ধার হওয়া যোদ্ধার খুলিতে লোহার প্লেট লাগানো নিয়ে ইতিমধ্যেই উদগ্রীব হয়ে পড়েছে চিকিৎসক মহল। বারবার প্রশ্ন উঠছে পুরাকালে বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতা শল্যচিকিৎসায় কতটা উন্নতি সাধন করেছিল? বিভিন্ন সভ্যতার দেবদেবীর নিদর্শন এবং তাদের কাব্যগ্রন্থের উল্লিখিত তথ্য অনুসারে এ কথা বলা যেতেই পারে পুরাকালে শল্যচিকিৎসার ব্যাপক উন্নতি সাধন ঘটেছিল।

About Post Author