Home » ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডে মিলল না চিকিৎসা, মর্মান্তিক মৃত্যু

‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডে মিলল না চিকিৎসা, মর্মান্তিক মৃত্যু

সময় কলকাতা ডেস্কঃ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেও মিলল না চিকিৎসা পরিষেবা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও ঠাই মেলেনি কোথাও। অবশেষে রবিবার ভোররাতে মৃত্যু হল মোটরবাইক দুর্ঘটনায় জখম ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের। দুর্গাপুরের ফরিদপুর থানার অন্তর্গত জব্বরপল্লী এলাকার ঘটনা। মৃত ওই বৃদ্ধের নাম নির্মল মন্ডল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত দশটা নাগাদ সাইকেল করে বাড়ি ফিরছিলেন মৃত ওই বৃদ্ধ। সেসময়ই ঝাঁঝরা গ্রামের এক যুবক প্রচন্ড গতিতে বাইক চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ,তখনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই যুবক নির্মল বাবুকে ধাক্কা মারেন। বাইকের ধাক্কায় মারাত্মক জখম হন ওই বৃদ্ধ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি জখম নির্মলবাবুকে উদ্ধার করে প্রথমে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখান তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও তাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি।এরপরই আহত নির্মলবাবুকে ফেরত আনা হয় দুর্গাপুরে। সেখানে একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু কোনোরকম ভাবেই চিকিৎসা মেলেনি তাঁর।

অভিযোগ,ওই ব্যক্তির পরিবারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্বেও তাকে কোন হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার পর চিকিৎসা না পেয়ে অবশেষে মৃত্যু হয় নির্মলবাবুর। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। মৃত ওই বৃদ্ধের আত্মীয় পরিজন ও স্থানীয়রা রবিবার ভোর চারটে নাগাদ নির্মলবাবুর মৃতদেহ রাস্তায় নামিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ক্ষোভের জেরে অবরোধ করা হয় দুর্গাপুর থেকে ইছাপুর যাওয়ার রাস্তা। ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় ওই এলাকায়।

পাশাপাশি প্রশাসনকে মৃত ওই বৃদ্ধের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও যান নিয়ন্ত্রণের জন্য রাস্তায় স্পিড ব্রেকার দেওয়ার দাবি জানান তারা। দীর্ঘক্ষন ধরে চলে তাঁদের এই অবরোধ। অবশেষে এদিন সকাল আটটা নাগাদ ফরিদপুর থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে উঠে যায় অবরোধ ।

About Post Author