Home » সাহসী যুবকের চেষ্টায় প্রাণে বাঁচল দুজন

সাহসী যুবকের চেষ্টায় প্রাণে বাঁচল দুজন

সায়ন মোদক , নদীয়া, সময় কলকাতা :

সাহসী এক যুবকের চেষ্টায় বাঁচল দুটি প্রাণ। অতল জল থেকে ডুবন্ত দুজনকে প্রাণে বাঁচিয়েও নদীয়ার যুবক কৃষ্ণগঞ্জের রাহুল রায়ের কোনও বাড়তি উচ্ছাস নেই,নেই কৃতিত্ব দেখানোর অতিরিক্ত চেষ্টা । উপস্থিত বুদ্ধি আর সাহস দেখিয়ে রাহুল সাঁতার দিয়ে সাহসে ভর করল এক দৃষ্টান্ত রাখল। নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জে মাথাভাঙা ব্রিজের তলায় বয়ে যাওয়া অতলান্ত জল থেকে সে উদ্ধার করে আনল আত্মহত্যার জন্য জলে ঝাঁপ দেওয়া এক তরুণী ও তাঁকে বাঁচাতে যাওয়া আরেক বিপন্ন মানুষকে। জলে ডুবে প্রাণ না গেলেও তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে।

বলা বাহুল্য,রাহুলের চেষ্টায় তরুণী আপাতদৃষ্টিতে প্রাণে বাঁচলেন, তাঁকে বাঁচাতে চেয়ে জলে নামা বিপন্ন মানুষটিও হয়তো বাঁচবেন । আদতে বাঁচবে মানুষের মানুষের পাশে থাকার ব্রত।হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে জীবনকে বাজি রেখে অসম্ভবকে সম্ভব করে আশ্চর্য রকম শান্ত সে ।গভীর জল থেকে সাঁতরে দুজন ডুবন্ত মানুষকে বাঁচিয়ে একগাল হাসি নিয়ে রাহুল জানায় , দুজনকে বাঁচাতে পেরে ভালো লাগছে।ভালো লাগাটুকুই সব, বাড়তি চাওয়ার মধ্যে আর  রয়েছে একটি প্রার্থনা। সে চায় দুজনই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুক। হাসপাতালের সামনে সেটুকুর জন্যই অপেক্ষা রাহুলের। এখনও যে প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ উপকারী মানুষের অভাব নেই, নেই তারুণ্যর উদ্যমের অভাব  আর তারই দৃষ্টান্ত রাহুল।

ঘটনাটি কৃষ্ণগঞ্জে আলোড়ন ফেলে রবিবার রাতে। কথাবার্তা নেই, আচমকা আত্মহত্যার চেষ্টায় জলে ঝাঁপ দেয় এক তরুণী । নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার কৃষ্ণগঞ্জ মাথা ভাঙা ব্রীজের উপর থেকে রাত সাড়ে নটার দিকে এক তরুণী জলে ঝাঁপ দেয়। সেইসময় ব্রীজের পাশের কালিমন্দিরের পুরোহিত অমর রায় ঘটনাটি দেখে  জলে ঝাঁপ দিয়ে তরুনীকে বাঁচাতে যান।ডুবন্ত তরুনী শেষ খড়কুটো ধরে বাঁচতে চেয়ে পুরোহিত কে জাপটে ধরে।  পুরোহিতও তরুণীর সঙ্গে তলিয়ে যেতে থাকেন জলে। উদ্ধারকর্তা হয়ে দেখা দেয় রাহুল।শরীরে ও মনে অফুরান শক্তির প্রমান মেলে তার প্রচেষ্টায়। জলে ঝাঁপ দিয়ে চুল ধরে দুজনকেই টেনে নিয়ে ডাঙায় তুলে আনে রাহুল ।

জল থেকে উদ্ধার হওয়া দুজনকে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তরুণীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় । পুরোহিতও সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত হন নি ।তিনি আপাতত কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।খবর পৌঁছাতেই হাঁসপাতালে পৌঁছে যায় কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ । প্রাথমিক ভাবে জানা যায়,বছর একুশের তরুণীর নাম জ্যোতি বিশ্বাস, তার বাড়ি নদীয়ার জয়ঘাটায়। । পুলিশের প্রাথমিক ধারণা,  প্রেম ঘটিত কারনে ঐ তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করে ।

একদিকে তরুণী বা পুরোহিতকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের সবরকম চেষ্টা চলছে তখন হাসপাতালের বাইরে অধীর আগ্রহে তাঁদের বিপদ থেকে মুক্তির খবরের জন্য অপেক্ষা করছে রাহুল ও স্থানীয় যুবকের দল।  হানাহানিতে অশান্ত, অস্থির সময়ে মনুষ্যত্বকে বাঁচিয়ে রেখে উত্তরণের পথ দেখাচ্ছে রাহুল রায়ের মত মুখ।

About Post Author