Home » সরকারি আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হয়েছিল একজনের নামে, আর তা পেলেন অন্যজন

সরকারি আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হয়েছিল একজনের নামে, আর তা পেলেন অন্যজন

সময় কলকাতা ডেস্কঃ সরকারি আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হয়েছিল একজনের জন্য। কিন্তু তিনি বেশ কিছুদিন ধরে নিরুদ্দেশ। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান তাঁর নিজের ভাসুরের ছেলের একই নাম হওয়ায় তাঁকে পাইয়ে দিয়েছে সরকারি ঘর।  মুর্শিদাবাদের ভরতপুর ১ নম্বর ব্লকের সিজগ্রাম পঞ্চায়েতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আসল উপভোক্তার বোন আসরফি বিবি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

উপভোক্তার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০-২১ আর্থিকবর্ষে প্রধান মন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় নাম ছিল  সৈয়দকুলুট গ্রামের বাসিন্দা ইমরান হোসেনের। ওই তালিকায় তাঁর আই ডি নম্বর রয়েছে ৩৩৩৬১৮১। কিন্তু প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাই তাঁর নামে সরকারি ঘর বরাদ্দ হলেও, তদারকি করার কেউ ছিলেন না। অভিযোগ, নিখোঁজ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন সিজগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রাসমিনা বিবি। প্রধানের ভাসুরের ছেলের নাম ইমরান হোসেন। আর উপভোক্তার নামও ইমরান হোসেন। তাই তাঁকে ওই ঘর পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘর তৈরির পুরো টাকাও তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও নাম এক হলেও দুইজনের বাড়ি আলাদা গ্রামে। আসল উপভোক্তার বাড়ি সৈয়দকুলুট গ্রামে হলেও, যিনি টাকা পেয়েছেন তাঁর বাড়ি সিজগ্রামে।

আসল উপভোক্তা ইমরান হোসেনের বোন আসরফি বিবি বলেন, আমার ভাইয়ের ঘরের তালিকায় নাম থাকলেও, ভাই দেড় বছর ধরে নিখোঁজ। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান নিজের ভাসুরের ছেলেকে ওই আই ডি ব্যবহার করে ঘর পাইয়ে দিয়েছেন। আমরা নেটের মাধ্যমে এই সত্যি জানতে পেরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি।

 

যদিও অনিয়ম নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান রাসমিনা বিবির স্বামী আমির হামজা সাফাই, ‘আসল উপভোক্তার ঠিকানা জানতে না পারায় এই ঘটনা ঘটেছে। তালিকায় উপভোক্তার গ্রামের নাম ছিল না। একই নাম থাকায় আমার দাদার ছেলেকে ওই ঘরের টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আমিও চাই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। প্রয়োজনে ঘরের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে’।

About Post Author