Home » গরমের দাপটে বাড়ছে মাটির পাত্রের চাহিদা, খুশি কুম্ভকাররা

গরমের দাপটে বাড়ছে মাটির পাত্রের চাহিদা, খুশি কুম্ভকাররা

সময় কলকাতা ডেস্ক: একটা সময় গরম পড়লেই খোঁজ পড়ত মাটির কুঁজো-কলসির।প্রখর দাবদাহে জল পান করে সব থেকে বেশি তৃপ্তি পাওয়া যেত এক গ্লাস মাটির কলসি কিংবা কুঁজোর জলে। তবে দিন পালটেছে। এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। চলছে বাতানুকুল যন্ত্র, জলের বোতলের গায়ে ঠাণ্ডার পরত।যায়।ধনিদের ফ্রিজ থাকলেও গরীব মধ্যবিত্তদের অধিকাংশেরই ঘরে এখনো মাটির ফ্রিজ ব্যবহারেই অভ্যস্ত। করেই সাচ্ছন্দ্যবোদ করে। কারণ, মাটির তৈরি পাত্রে জল রেখে সেই তা পান করে যে তৃপ্তি পাওয়া যায় তা হয়তো ফ্রিজের জলে পাওয়া যায়না।পাশাপাশি মাটির কলসির জল ফ্রিজে রাখা জলের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর বলে দাবি করেন অনেকেই। তাই গরমের শুরুতে নাওয়া খাওয়ার সময় নেই কুম্ভকারদের।

উত্তর ২৪ পরগণা দত্তপুকুর পালপাড়া এলাকায় অধিকাংশ পরিবার এই মৃৎশিল্পের সাথে যুক্ত।বছরে দুটো সিজিন একটা এই গরমের সময় এবং আর একটি দীপাবলির সময়।গরম পড়েছে বেশ কয়েকদিন।এখন মাটির তৈরি জল রাখার পাত্রের চাহিদা গত দুবছরের থেকে অনেক বেশি।তাই ২৪ ঘন্টাই ব্যাস্ত এই মৃৎশিল্পীরা।প্রতিটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে মাটির জালা,কুজো,কলসি,জগ,এবং প্রচুর পরিমানে মাটির জলের বোতল।

গত দুবছর ধরে করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসার অবস্থা অনেকটাই খারাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল,কারণ লকডাউনের কারণে সবকিছু বন্ধ ছিলো, বিশেষ করে যানবাহন বন্ধ থাকার কারণে রাজ্যের বাইরে মাল পাঠাতে পারতো না।এই এলাকা থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাটির তৈরী সামগ্রী অর্ডার অনুযায়ী পৌছে যেত,যার গত দুবছর সেই ভাবে পাঠাতে পারেনি এখানকার মৃৎ ব্যবসায়ীরা।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও আগের মত পাঠাতে পারছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।মাটির দাম এখন আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গেছে,তারই সাথে অন্যান্য খরচও বেড়ে গেছে,সেই তুলনায় তারা তাদের মাটির তৈরি জিনিসের দাম এখনো বাড়েনি বলে জানান মৃৎশিল্পীরা।

এখন ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে  ঘর ঠান্ডা করা , খাবার জল ঠান্ডা করার বৈদ্যুতিক যন্ত্র ফ্রিজ, এসি। কিন্তু মানুষ যত যন্ত্র নির্ভর হয়েছে তত বেড়েছে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা, বলছেন বিজ্ঞানীরা। তবেকি মানুষ আবার ফিরে যাবে সাবেকি প্রকৃতি নির্ভর নিয়মের মধ্যে? সময়ই তার উত্তর দেবে।

About Post Author