সময় কলকাতা ডেস্কঃ পৌর নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে ফের প্রকাশ্যে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল। কেউ এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে নারাজ। আর এর জেরেই কপালে চিন্তার ভাঁজ শাসকদলের। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর পৌরসভার অন্তর্গত সাত নম্বর ওয়ার্ডে।
বেশ কয়েক বছর ধরে সাত নম্বর ওয়ার্ডে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় রয়েছে। আর সেই দলীয় কার্যালয় দখলকে ঘিরে শাসকদলের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল। বচসা শুরু হয় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলর কল্যাণী ঘোষের। মুহুর্তের মধ্যে মেজাজ হারান কল্যাণী ঘোষ বলে অভিযোগ। নব নির্বাচিত কাউন্সিলর কল্যাণী ঘোষ হুমকি দেন যুব তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের। সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই বিষয়ে তৃণমূলের ওয়ার্ড কাউন্সিলর কল্যাণী ঘোষ বলেন “প্রায় দেড় বছর ধরে একটি যুব তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস রয়েছে। যেখানে নানা ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ করা হয়। আমাকে এলাকাবাসীরা এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। তারা এও বলে আপনি যদি এখানে প্রতিদিন বসেন তাহলে এই ধরণের কার্যকলাপ কম হবে। শুক্রবার সেখানে একটি তৃণমূল কর্যালয় বলে একটি ব্যানার লাগানো হয়। রাতেই বুবুন চ্যাটার্জী সহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে দেয়।পাশাপাশি টাউন প্রেসিডেন্ট আমাকে হুমকি দেয়” বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূল সভাপতি দিব্যেন্দু পাল জানান, “ কল্যাণী ঘোষ যে অভিযোগ করেছেন তা পুরোটাই ভিত্তিহীন। ওই পার্টি অফিস অনেকদিন থেকেই যুবরা চালাচ্ছে। কোন ভাবেই কল্যাণী ঘোষকে ধমক দেওয়া হয়নি”
শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দলকে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপি। খড়গপুরের বিজেপি উত্তরের সভাপতি দীপসোনা ঘোষ বলেন, “তৃণমূল দখলের রাজনীতি সবসময়ই করে আসছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ এবং খড়গপুরের মানুষ দেখছেন কীভাবে কাউন্সিলরের সঙ্গে যুব তৃণমূলের কারা দখলের রাজনীতি করছে। খুব শীঘ্রই মানুষ এই দখলের রাজনীতির জবাব দেবে”।
প্রসঙ্গত, পৌর নির্বাচনের সময় সাত নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণী ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের বহু কর্মীরা। পাশাপাশি তারা এলাকার মানুষকে প্রচারের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন যেন কল্যাণী ঘোষকে জয়ী করা হয়। মানুষ তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করেন।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ কতটা সম্ভবপর?