Home » ব্রিটিশ রবীন্দ্র সাহিত্য অনুবাদককেই বন্দী করেছিল ব্রিটিশ সরকার

ব্রিটিশ রবীন্দ্র সাহিত্য অনুবাদককেই বন্দী করেছিল ব্রিটিশ সরকার

সময় কলকাতা ডেস্ক : রবীন্দ্র জয়ন্তী এসেই গেল প্রায়।এমন দিনে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে গভীর যোগসূত্র থাকা জন্মসূত্রে বিদেশী ও মননে ভারতীয় একজন মহর্ষি বেশ প্রাসঙ্গিক।ইংরেজি মত ধরলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে একইদিনে ও রবীন্দ্রজন্মের কুড়ি বছর পরে অর্থাৎ ৭মে তাঁর জন্মদিন। তিনি ভারতপ্রেমী রবীন্দ্রসাধক উইলিয়াম পিয়ার্সন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির হৃদয়ে আছেন। কিন্তু কবিগুরুর লেখার বিশ্বব্যাপী যশলাভের গোড়ার দিকে যে মানুষেরা জড়িয়ে আছেন তাঁর মধ্যে অন্যতম পিয়ার্সন। বিদেশী হয়েও তিনি  ভারতের মাটিতে শেকড় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।স্বল্পায়ু জীবনে তিনি ছিলেন দেশে-বিদেশে রবীন্দ্র চর্চার পুরোধা। উইলিয়াম পিয়ার্সনের মাত্র ৪৩ বছরে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ।যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে ১৮৮১ সালে জন্ম হওয়া পিয়ার্সনের চেয়ে বড় বিদেশী ভারতপ্রেমী এদেশে খুব কমই এসেছেন।  ভারতের সমর্থনে তাঁর রাজনৈতিক মতবাদের জন্য তিনি ব্রিটিশ সরকারের অপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

১৯০৭ সালে কলকাতায় উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে কাজ শুরু করে কিছুদিনের মধ্যে দেশে ফিরে যান।১৯১১ সালে তিনি নিজের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ পান।১৯১২ সালে বোলপুরে এসে শান্তিনিকেতনের কাজে যোগ দেন। মাঝে সত্যাগ্রহ আন্দোলনে যোগদানের জন্য দেশে না থাকলেও ১৯১৪ সালে আবার ফেরেন শান্তিনিকেতনে।রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তিনি জাপান ভ্রমণে গেছিলেন।  রবীন্দ্রনাথ ছাড়াও মহাত্মা গান্ধী, শ্রীমা তাঁকে প্রভাবিত করেছিলেন। তিনি সত্যগ্রহ আন্দোলনে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকা যান। এছাড়াও তিনি চীনে গিয়ে ভারতের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন ও বক্তৃতা করেন। প্রমাদ গোনে ব্রিটিশ সরকার। তাঁর রাজনৈতিক মতামত রোষে পড়েন ব্রিটিশ সরকারের, বন্দী করে তাঁকে ব্রিটেনে নিয়ে নিজের বাড়িতে অন্তরীণ রাখা হয়। ১৯২১ সালে এদেশে ফিরে আবার ফেরেন তাঁর সাধের শান্তিনিকেতনে। তাঁর শান্তিনিকেতনকে নিয়ে লেখা স্মৃতিকথা তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা। এছাড়াও গোরা উপন্যাস এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহু কবিতা তিনি অনুবাদ করেন।।

About Post Author