Home » নারীর সান্নিধ্য কবির হৃদয়ে রচনা করেছে এক একটি নতুন পৃথিবী

নারীর সান্নিধ্য কবির হৃদয়ে রচনা করেছে এক একটি নতুন পৃথিবী

সময় কলকাতা ডেস্ক: আধুনিক যুগে মানুষ অনেক বেশি যান্ত্রিক হলেও, আবেগ অনুভূতি প্রকাশে এখনও সর্বশ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ। আজীবন সৃষ্টিশীল রবীন্দ্রনাথ প্রেমের জন্য ছিলেন বুভুক্ষু। ১৪ বছর বয়সে কিশোর রবি প্রথম নারীর সান্নিধ্যে আসেন বৌঠান কাদম্বরী দেবীর সাহচর্যে। কিশোরী বৌ দিদির সঙ্গে বালক রবির খুনসুটির সম্পর্ক ছিল। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘চারুলতা’, নষ্টনীড়ে সেই ছাপই যেন সুস্পষ্ট।

১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে কবির বিয়ে হয়। তবে কবির জীবনে নিখাঁদ ভালোবাসার করুণ পরিণতি লাভ করে কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার পর। ১৭ বছরের তরুণ কবি মারাঠি তরুণীর রোমান্টিক প্রেমে নীরবে সাড়া দিয়েছিলেন তাঁর প্রমাণ যথেষ্ট। প্রেমিকা আন্না তড়খড়ের নতুন নাম দিলেন ‘নলিনী’। বয়সে বড় আন্না তড়খড় অসামান্য সুন্দরী, বিদূষী, বুদ্ধিমতি, রূপ লাবণ্যে ভরপুর এবং বিলাত ফেরত তরুণী। তার কাছে ইংরেজি বলার পাঠ নেওয়ার পাশাপাশি প্রেমের পাঠও নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

সুদর্শন রবীন্দ্রনাথ তখন আঠারো বছরের তরুণ। বিলেতে ব্যারিস্টারি পড়তে এসেছেন। সেখানে হৃদয়ের লেনদেন হয় স্কট কন্যা লুসির সঙ্গে।ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গুঞ্জন ছিল। আর্জেন্টিনা ভ্রমণের সময় রবীন্দ্রনাথ ৬৩ বছরের প্রবীণ। ওকাম্পোর থেকে রবীন্দ্রনাথ ২৯ বছরের বড় ছিলেন। আর্জেন্টিনার প্লাতা নদীর ধারে বিদেশী কন্যা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে কবি বেশ আপন করে নিয়েছিলেন। মেয়ের বয়সী ওকাম্পো হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথের অন্তরঙ্গ নারী। কবি তাঁর নতুন নাম দেন বিজয়া।

ইন্দিরার (রবীন্দ্রনাথের মেজ দাদা সতেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে) জন্য রবীন্দ্রনাথের মন কাঁদত। এই মেয়েটির সঙ্গে কবির আত্মার সম্পর্ক ছিল। জীবনের অন্তিমে রানু অধিকারীর সঙ্গে মনের মিলন ঘটে। অনেক রবীন্দ্র গবেষকই মনে করেন তাদের মধ্যে একটি ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ সফল বা বিফল যাই হোন না কেন, কবি হিসেবে যে তিনি যে জগৎ শ্রেষ্ঠ তা বলাই বাহুল্য। এক একটি প্রেম হয়ে উঠেছে এক একটি সৃষ্টি। এককথায় কবি প্রেমকে দেখেছেন জীবনের দর্শন খুঁজে পেতে। তাঁর সঙ্গীত ও সাহিত্যকর্মের অন্যতম বিষয় প্রেম। সেই প্রেম সার্বজনীন, পবিত্র, সরল ও আবেগময়।

About Post Author