সময় কলকাতা ডেস্কঃ ‘মহিলা শিশুদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে, ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় এরকম ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু, তাতে বাংলার বদনাম হচ্ছে না, অমিত শাহ বললেই বাংলার বদনাম হয়ে যাবে।’ রবিবার ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে, বাংলার শাসকদলকে কার্যত নিজের চাঁচা ছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
উল্লেখ্য, তেইশেই তেলেঙ্গানায় বিধানসভা নির্বাচন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে সেখানে পদ্ম ফোটতে মরিয়া বিজেপি, যা স্বাভাবিকভাবেই চব্বিশে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে পদ্মশিবিরকে। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান শাসকদলের খামতিগুলিকে তুলে ধরতে কোনও সুযোগই হাতছাড়া করতে নারাজ বিজেপি। শনিবার তেলেঙ্গানায় এক দলীয় সভায় উপস্থিত হয়ে সেরাজ্যের রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে সরব হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই তিনি টেনে আনেন বাংলার প্রসঙ্গও। বলেন, তেলেঙ্গানার অবস্থাও ঠিক বাংলার মতোই। বাংলাতেও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। খুন করা হচ্ছে। তেলেঙ্গানাতে এই ঘটনা রুখতে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীকে রুখতেই হবে। দলীয় সভায় এমনই বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যে অল্প-বিস্তর বিতর্কও ছড়িয়েছে। পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বাংলার শাসকদলের নেতৃত্বরাও। তৃণমূলের পাল্টা তোপকে যদিও তোল্লাই দিতে নারাজ বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রবিবার ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বার্তাকেই কার্যত সমর্থন করেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তিনি জানান, সারা দেশের মানুষের জানা প্রয়োজন রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি কীভাবে চলছে, কীভাবে আইনের ব্যবস্থা রয়েছে, গণতন্ত্র কি অবস্থায় রয়েছে। তেলেঙ্গানাতে হায়দ্রাবাদ কর্পোরেশন নির্বাচনে ভালো ফলাফলের পরেই বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার শুরু হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানকার পরিস্থিতির সঙ্গে তেলেঙ্গানার তুলনা করেছেন অমিত শাহ।
এদিন ত্রিপুরায় মেয়াদ শেষের আগেই বিপ্লব দেবের ইস্তফা নিয়েও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। দল যা ঠিক মনে করেছে তাই করেছে। জানিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। পাশাপাশি, রাজ্যে আন্তর্জাতিক হাওয়ালা পাচার চক্র নিয়েও রাজ্য প্রশাসনকে একহাত নেন তিনি। এদিকে, বউবাজারের মেট্রোরেলের কাজ চলাকালীন একাধিক বাড়িতে ফাটল প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারকে পাল্টা দেন তিনি। শাসকদল রাজনীতির করছে বলে তোপ দাগেন তিনি। এদিন বাদ যায়নি শিক্ষক নিয়োগে বেনিয়মের বিষয়টিও। এদিকে, এসএলএসটি কর্মশিক্ষা এবং শারীরশিক্ষা চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভকেও সমর্থন করে রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন দিলীপ ঘোষ। সবমিলিয়ে দলে অন্তর্দ্বন্দ্বের জল্পনার মাঝেই নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানাতে ব্যস্ত বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?