Home » মহাদেব ও বিষ্ণুর যুদ্ধের ইতিহাস

মহাদেব ও বিষ্ণুর যুদ্ধের ইতিহাস

তুহিন চক্রবর্তী,সময় কলকাতা :  শিব পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণ দুই পুরাণ মতেই ভগবান শ্রী বিষ্ণু ও দেবাদিদেব মহাদেব হলেন অভিন্ন।এককথায় তাঁরা ছিলেন হরিহর আত্মা।তাঁদের দুজনেরই কাজ বিশ্ব সংসারে ধর্মকে রক্ষা করা এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে সৃষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা।তারা দুজনেই একে অপরের আরাধ্য দেবতা।অর্থাৎ মহাদেবের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অবতীর্ণ হওয়া অর্থ যেন মহাদেবের বিরুদ্ধে স্বয়ং মহাদেবেরই যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া।তা সত্ত্বেও কেন দুবার একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন ভগবান শ্রী বিষ্ণু ও মহাদেব?কি হয়েছিল সেই যুদ্ধের পরিণতি?আসুন জেনে নেওয়া যাক।

বিষ্ণু পুরাণ মতে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যখনই ধর্মনাশ হয়েছে ও অধর্ম মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তখনই ভগবান শ্রী হরি নারায়ণ বিভিন্ন অবতারে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে অধর্মকে নাশ করে ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।ভগবান বিষ্ণুর দশাবতারের চতুর্থ অবতার হল নৃসিংহ বা নরসিংহ অবতার।এই নরসিংহ অবতারে ভগবান বিষ্ণু দুরাচারী দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুকে বধ করেছিলেন।হিরণ্যকশিপু ব্রহ্মার তপস্যা করে ব্রহ্ম দেবকে তুষ্ট করে বরদাণ লাভ করেছিল তাই জলে,স্থলে,দিনে বা রাতে,ঘরে বা বাইরে,তার মৃত্যু অসম্ভব। কোন মানুষ,বা পশু বা কোন শস্ত্র দ্বারা তার মৃত্যু ছিল অসম্ভব।তাই অহংকার বশে হিরণ্যকশিপু ভগবান বিষ্ণুকে অশ্রদ্ধা ও অপমান করে।এবং পরম নিষ্ঠাবান বিষ্ণুভক্ত তার নিজের সন্তান প্রহ্ললাদকে হত্যার চেষ্টা করেন আর এতেই ক্রুদ্ধ হয়ে ভগবান বিষ্ণু নৃসিংহ রূপ ধারণ করে ঘরের দরজার চৌকাঠে নিজের জানুর ওপরের নখ দিয়ে উদর চিড়ে হিরন্যকশিপুকে বিনাশ করেন।
হিরণ্যকশিপুকে নিধনের পর অসম্ভব ক্রোধে ফেটে পরেন ভগবান নরসিংহ।

ভগবান নৃসিংহের ক্রোধ পৃথিবীর বিনাশ শুরু করলে সমস্ত দেবতারা তাকে শান্ত করার জন্য দেবাদিদেব মহাদেবের স্মরনাপন্ন হয়ে তাকে অনুরোধ করে নরসিংহ দেবকে শান্ত করার জন্য।দেবাদিদেব মহাদেব তার কাল অবতার বীরভদ্রকে পাঠান নরসিংহকে শান্ত করার জন্য কিন্তু তাতেও নরসিংহদেব শান্ত না হওয়ায় মহাদেব স্বয়ং নরসিংহের সামনে অবতীর্ণ হন।মহাদেব তার ডমরুনাদের দ্বারা নরসিংহকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এতেও নরসিংহ শান্ত না হওয়ায় টানা ১৮ দিন মহাদেব আর নরসিংহদেবের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়।অবশেষে মহাদেবের সামনে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পরেন নরসিংহদেব।এবং তার ক্রোধ শান্ত হয়।তিনি আরাধ্যের বিরুদ্ধে শস্ত্র ধরার জন্য দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে ক্ষমা চান।তিনি বুঝতে পারেন দেবাদিদেব তার ক্রোধ শান্ত করতেই তার সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।এরপরেও আরও একবার যুদ্ধ হয়েছিল এই দুই মহাশক্তিশালী দেবতার মধ্যে যার  প্রসঙ্গ ভিন্ন।।

About Post Author