Home » ভিন রাজ্যে কাজ করতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু

ভিন রাজ্যে কাজ করতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু

সময় কলকাতা ডেস্ক:  জম্মু-কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু বাংলার ৫ শ্রমিকের। প্রত্যেকেই জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির বাসিন্দা। পরিবারে শোকের ছায়া।

পেটের দায়। খিদে তো কোনও বাধাই মানতে চায়না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার। আর্থিক অনটনে পেটের দায়ে কাজে গিয়েছিলেন ভিনরাজ্যে। কিন্তু, আর ফেরা হল না বাড়ি। জম্মুতে টানেল তৈরী করতে গিয়ে মৃত্যু হল বাংলার ৫ শ্রমিকের। বৃহস্পতিবার নির্মীয়মান টানেল তৈরির কাজ চলাকালীন ধ্বস নামে। তারপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে পড়েন শ্রমিকেরা। তাঁদের মধ্যেই ৫ জন ছিলেন জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির বাসিন্দা। দীর্ঘক্ষণ খোঁজ চালানোর পর উদ্ধার হয় ধুপগুড়ির সুধীর রায় সহ বাকি ৪ জনের মৃতদেহ। তারপরেই বাড়ির উদ্দ্যেশ্যে পাঠানো হয়েছে সুধীর রায়ের নিথর দেহ। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে।

জানা গিয়েছে, ধুপগুড়ির গদেয়ারখুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যেক বুথ থেকে প্রায় ২০ জন করে শ্রমিক কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেন। মোট ১৮ টি বুথ এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এই পঞ্চায়েত এলাকা থেকেই কাজের সূত্রে ৩ মে জম্মু-কাশ্মীরের রাম্বনে যান ৩ জন। ধুপগুড়ির বাকি ২ জন আগে থেকেই ছিলেন সেখানে। শুক্রবার রাত ১১ টা নাগাদ ধ্বস নেমে বেশ কয়েক জন টানেলে আটকে পড়েন। তাদের মধ্যে ধূপগুড়ি থানার অন্তর্গত ৫ জন শ্রমিক ছিলেন বলে খবর। সুধীর রায় সহ বাকি চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান।

সুধীর রায়ের নিথর দেহকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে রাজধানীর উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরাই। তবে, যে যায়, সে তো একেবারেই যায়। রেখে যায় স্মৃতি। বাবার স্মৃতি নিয়েই দিন কাটছে দুই শিশুর। ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী এবং বাবা-মা। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে বড় করে তোলার চিন্তা তাড়া করে বেরাচ্ছে সুধীরের পরিবারকে। শোকের ছায়া বাকিদের পরিবারেও।

About Post Author