Home » চুরির ঘটনায় পড়াশোনা লাটে ওঠার উপক্রম সরকারি স্কুলে

চুরির ঘটনায় পড়াশোনা লাটে ওঠার উপক্রম সরকারি স্কুলে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ চুরির ঘটনা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। স্কুলের সম্পত্তি চুরির হাত থেকে বাঁচাতে নাজেহাল অবস্থা স্কুল কর্তৃপক্ষের। গরমের ছুটিতে স্কুল বন্ধ করার পরে মিড ডে মিলের চাল থেকে শুরু করে রান্নার সরঞ্জাম সবই রাখতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে। স্কুলের মধ্যে রাখলে তা চুরি হয়ে যাবে,এই ভয়ই গ্রাস করছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। এভাবেই দিনের পর দিন একই পরিস্থিতি হাওড়ার উনসানি পালপাড়া এলাকার উত্তর মৌরি কেশবচন্দ্র নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দশ বছর ধরে লাগাতার স্কুলের পাখা থেকে শুরু করে মিড ডে মিলের চাল, ডাল, ছাত্রদের বই খাতা এমনকি পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ স্কুলের পোশাক, জুতো পর্যন্ত চুরি হয়েছে। আর এভাবে চুরি হওয়াতে কার্যত স্কুলের পঠন পাঠন লাটে উঠছে বলেই আশঙ্কা তাদের। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় থানা থেকে শুরু করে প্রশাসনকে লিখিত ভাবে বিস্তর অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি বলেই দাবি তাঁদের। এভাবে চলতে থাকলে স্কুলের পড়াশোনা লাটে উঠবে বলেই আশঙ্কা করছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের অভিভাবকদের একাংশ।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মালতি রায়ের অভিযোগ, ‘নিত্যদিন চুরির ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চুরি ঘটনায় এখন তারা মিড ডে মিলের রান্নার সরঞ্জাম স্থানীয় লোকেদের বাড়িতে রাখেন। প্রতিদিনের যেটুকু প্রয়োজন সেটুকুই রোজ নিয়ে আসেন। এমনকি এহেন পরিস্থিতিতে স্কুলের মধ্যে খাদ্য সামগ্রীও মজুত রাখেন না তারা।‘
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা পার্থ প্রতিম পাল অভিযোগ করে জানান, ‘আশি বছর এই স্কুলের বয়স। স্কুলের জন্য বেশ কিছুদিন আগে একটি কম্পিউটারও দিয়েছিলেন তিনি। তবে চুরি ঘটনার কারণে সেই কম্পিউটার আবার বাড়ি নিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, খুবই অসুবিধার মধ্যে রয়েছে স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে দুশো জনের বেশি পড়ুয়া। এই পরিস্থিতিতে ‘অবিলম্বে চোর ধরার ব্যবস্থা করুক পুলিশ প্রশাসন এবং স্কুলে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়ারও ব্যবস্থা করুক। প্রশাসনের কাছে স্কুলের পরিস্থিতি পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার কাতর আবেদন জানিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে অভিভাবকরা।

About Post Author