অতীতের জমজমাট শহর আজ কেন জনবিরল?
পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা : না জানলে অবাক হওয়ারই কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট শহর টিল্ট কোভের বাসিন্দা মাত্র ৪জন। যদিও কানাডার খাতায় কলমে অর্থাৎ গত বছরের আদম সুমারিতে এখানের বাসিন্দা ৫ তথাপি ৩.১বর্গ কিলোমিটারের এই শহরের বাসিন্দা আদতে এমুহুর্তে মাত্র ৪। তাহলে শহর কী করে বলা চলে টিল্ট কোভকে? টিল্ট কোভ শহর হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত এবং টিল্ট কোভে ডাক পরিষেবা সহ নাগরিক পরিষেবা রয়েছে ও নাগরিক পরিষেবা রয়েছে। রয়েছেন একজন মেয়রও। শখানেক বছর আগের একটি দুর্ঘটনা আস্তে আস্তে বদলে দিল শহরটাকে। শহর থেকে গেল, মানুষজন বিশেষ থাকল না।

১৮১৩ সালে ইংল্যান্ড থেকে আগত দুটি মানুষ টিল্ট কোভের পত্তন করেন। ১৮৫৭ সালে এখানের জনসংখ্যা ছিল ২৫।এখন এই শহরের মেয়র ডন কলিন্স। তাঁর স্ত্রী মারগারেট, শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রী অর্থাৎ মেয়রের বোনকে নিয়ে এই অতিক্ষুদ্র নগর।নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ল্যাবরেডরের টিল্ট কোভ কখনই খুব বড় শহর না হলেও একসময় ছিল জমজমাট । প্রাণ ছিল শহরে।
খনিশহর হিসেবে পরিচিতি ছিল টিল্টকোভের। খনি শহর হিসেবেই কার্যত জন্ম এই শহরের।১৮৬৪ সালে স্মিথ ম্যাকে নামে জনৈক খনি বিশেষজ্ঞ এখানে তামায় সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে টিল্ট কোভকে চিহ্নিত করেন।টিল্ট কোভ উনবিংশ শতকের শেষ দিকে কেপ কপার কোম্পানির অধিকারভুক্ত হয়।বেশ চলছিল, ধীরে ধীরে চালু হতে থাকে সব নাগরিক পরিষেবা । বিংশ শতকের গোড়ায় সমৃদ্ধ নগরী হয়ে ওঠে টিল্ট কোভ যা কিনা তৎকালীন সাংবাদিকদের বর্ণনা থেকে জানা যায়। খনি শহরের লোকসংখ্যা বেড়ে চলেছিল। বিংশ শতকের প্রথম দশকের গোড়ায় এখানের লোকসংখ্যা বেড়ে দেড়হাজার ছাড়ায়। খনির বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের বাস তখন টিল্ট কোভে। গড়ে উঠছে শহর আরও সুন্দরভাবে।

অবশেষে এল ১৯১২ সালের সেই ভয়াবহ দুপুর,শহরের বিকাশের অভিশাপ হয়ে। খনি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ৫ জন, আহত হলেন অসংখ্য মানুষ।ধীরে ধীরে বিপজ্জনক খনি এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হল টিল্ট কোভ। মানুষ প্রাণের মায়ায় কাজ ও শহর ছাড়তে থাকলেন। কয়েক বছরের মধ্যেই জনবিরল হয়ে উঠতে থাকল টিল্ট কোভ। ১৯১৬ সালে এখানের লোকসংখ্যা ১০০ তে নেমে আসে। ১৯২০ সালে বন্ধ হয়ে গেল খনি।১৯৫৭ সালে আরেকবার খনিমুখ খোলা হয়েছিল। আগের সুদিন আর ফেরে নি। ১৯৬৭ সালে চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় খনি।
মাইনিং বা খনিজ পদার্থ উত্তোলনের কাজ বন্ধ হয়ে যায় ১৯৬৭ সালে। কমতে থাকে জনসংখ্যা। ২০১৫-১৬ সালে এই সংখ্যা তলানিতে ঠেকে মেয়রের মা ও শাশুড়ির মৃত্যুর পরে । মেয়র ডন কলিন্স শহরের একমাত্র জাদুঘরটি রক্ষণাবেক্ষণ করেন। তাঁর জন্ম এই শহরেই।তিনি বলেন,তাঁরা এই শহর ছেড়ে চলে যেতে চান না। তবে বয়স বাড়ছে, একদিন ইচ্ছে না থাকলেও চলে যেতে হবে। শহরটি ছোট হলেও পর্যটকদের আসা যাওয়া লেগে রয়েছে এই মনোরম ভূখন্ডে। অদূর ভবিষ্যতে একদিন এমন আসবে যখন এই ভুখন্ডে বেড়াতে আসবেন পর্যটকরা, একসময় গমগম করতে থাকা টিল্ট কোভ শহরের স্থায়ী ও আদি বাসিন্দাদের কেউ হয়তো থাকবেন না।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ