সময় কলকাতা ডেস্কঃ প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য মালদহের চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। চাঁচল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মৃত ওই প্রসূতির নাম উমা ঘোষ।

জানা গিয়েছে, মৃত প্রসূতির বাড়ি মালদহের চাঁচল-২ নং ব্লকের নদাপাড়া গ্রামে। মৃতার স্বামী রঞ্জিত মন্ডল পেশায় একজন কৃষক। তিনি জানান, বুধবার উমা দেবীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বাভাবিকভাবে প্রসবও করে সে। অভিযোগ, প্রসবের পরও রোগীর রক্তক্ষরণ না থামায় নার্সদের ডাকতে গেলে তারা কোনোরকম সাহায্য করেনি। শেষ পর্যন্ত নার্সদের পা ধরে আবেদন করেও রক্ষা হয়নি। এমনকি সেই সময় চিকিৎসক বিশ্বজিৎ রায়েরও দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ। প্রসূতির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকলেও হাসপাতালের তরফে কোনো চিকিৎসা হয়নি। পাশাপাশি উচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করার কথাও বলা হয় নি। এরপরই মৃত্যু হয় ওই প্রসূতির। সদ্যোজাত শিশুটিও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে বলে খবর। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় হাসপাতাল চত্বরে। স্বাস্থ্য ভবন ও স্থানীয় চাঁচল থানাতেও অভিযোগ দায়ের করে রোগীর পরিবার।
যদিও চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার কুমারেশ ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘ওই প্রসূতির কোনোরকম রক্তক্ষরণ হয়নি। শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলেই প্রাথমিক অনুমান।”

অন্যদিকে এই ঘটনার কথা শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চাঁচলের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ। তিনি স্বাস্থ্যকভবনে বিষয়টি জানাবেন বলেও জানান। পাশাপাশি চাঁচলের স্থানীয় বাসিন্দা অমিতেষ পান্ডের অভিযোগ, স্ত্রী বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসক বিশ্বজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে এর আগেও হাসপাতালে একাধিকবার সরব হয়েছেন রোগীর পরিজনেরা। এইরকম মর্মান্তিক ঘটনায় গ্রামের মানুষ সরকারি হাসপাতালের প্রতি ভরসা হারাচ্ছেন। এরপর তারা বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী