Home » নদী বাঁধ সংস্কারে প্রশাসনের তৎপরতা,তবু চেনা ছবির পরিবর্তন হয়না

নদী বাঁধ সংস্কারে প্রশাসনের তৎপরতা,তবু চেনা ছবির পরিবর্তন হয়না

শ্যাম বিশ্বাস, উত্তর ২৪ পরগনা, সময় কলকাতাঃ  কথায় বলে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। আর ঠিক এই প্রবাদ বাক্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই শুরু হল ভরা বর্ষার মুখে  একাধিক দুর্বল বাঁধের মেরামতি। বর্ষা এলেই সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নদী বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। সেই চেনা ছবি সুন্দরবনবাসীর কাছে নতুন নয়। আর তাই  বর্ষার মুখেই “রায়মঙ্গল, গৌড়েশ্বর, ইছামতি, বেতনি, কালিন্দী সহ দুর্বল নদী বাঁধের কাজও শুরু”করল করল পঞ্চায়েত। পাশাপাশি বসিরহাটের সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালির একাধিক নদী বাঁধের কাজও শুরু করেছে ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত। একদিকে হিঙ্গলগঞ্জের যোগেশগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সরদার পাড়া রায়মঙ্গল নদীর দুর্বল বাধের কাজ  চলছে। অন্যদিকে যেসব সুইচগেট গুলো দুর্বল হয়েছিল সেগুলিকে দিনরাত কাজ করে বর্ষার আগেই সচল করার চেষ্টা চলছে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

পাশাপাশি সন্দেশখালির ব্লকের খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের সিতুলিয়া খেয়াঘাটের সংস্কারের কাজ ও শুরু হয়েছে পঞ্চায়েতের তরফ থেকে। একই সঙ্গে নদীবাঁধ গুলির উপর নজরদারিও চালানো হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের সেচ দপ্তর, ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েতের তরফ থেকে। দুর্বল নদী বাঁধের কাজ বর্ষার আগেই সম্পূর্ণ সেরে ফেলতে চাইছে। এমনটাই জানালেন হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অর্চনা মৃধা। তিনি ফের কেন্দ্রের দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন, “এন আর জি এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়েছে, কেন্দ্র সরকার ঠিকমতো টাকা দিচ্ছে না। যার কারণে বড় কাজগুলি করতে আমাদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত সেগুলির কাজ করতে গেলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। যার জন্য ধীরে ধীরে সেই কাজ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে বর্ষার আগে দুর্বল বাঁধের কাজে কোমর বেঁধে নেমেছে ব্লক প্রশাসন তা বলাই বাহুল্য।

গ্রামবাসীদের কথায় ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়। সেই অবস্থা আমাদেরও। প্রশাসন যতই তৎপরতার সঙ্গে বাঁধ মেরামতির কাজ করার চেষ্টা করুক ভরা বর্ষায় দেখা যায় যেকে সেই অবস্থা আমাদের। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা ভরা বর্ষায় এমনকি আয়লা, আমফান, ইয়াসের মত বড় বড় ঝড়ের প্রভাবে ইতিমধ্যেই গ্রামের পর গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভেঙ্গেছে নদী বাঁধ গুলি।সেগুলি এখনও পর্যন্ত ভাল করে ঠিক মতন মেরামত করা হয়নি। তাদের আরও অভিযোগ বর্ষা এলেই বাঁধ মেরামত করার উদ্যোগ দেখা যায় প্রশাসনের। সারা বছর যায় তখন প্রশাসনের আর টিকিটি পাওয়া না।

About Post Author