Home » সময়ের আগেই কি পঞ্চায়েত ভোট ! মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে জল্পনা

সময়ের আগেই কি পঞ্চায়েত ভোট ! মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে জল্পনা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ভোটের নির্ধারিত সময়ের আগেই কি বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের দাদামা বাজবে? গ্রাম-বাংলায় তৃণমূল স্তরে সরকার গঠনের সময়ই কি এগিয়ে আসবে? অন্তত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতে তো সেরকমই ইঙ্গিত মিলল। সম্প্রতি বর্ধমান জেলা সফরে বুধবার দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠক থেকেই তিনি প্রশাসনিক কর্তাদের স্পষ্ট জানান, “কাজগুলো ঝটপট করুন, নইলে ইলেকশনে ললিপপ খাবেন। ইলেকশন যে কোনও দিন ঘোষণা হয়ে যাবে”

উল্লেখ্য, শীতকালে নির্বাচনের পক্ষে বহু আগেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলেরই মনে থাকার কথা ২০১৩ সালের ঘটনা। সেসময় রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডের  সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাতের কথাও মনে ঠাকবে নিশ্চয়। এদিকে, এবারের পুরভোটও হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। তবে কি এবার ফের পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঘণ্টা বাজবে শীতেই? থেমে থাকা কাজগুলি দ্রুত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই  পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে এই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বেশ কিছুদিন আগেই বাংলা আবাস যোজনা থেকে বাংলা শব্দটি না সরালে টাকা দেওয়া হবে না রাজ্যকে, এই নির্দেশেই নবান্নকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল কেন্দ্র। এদিন, পশ্চিম বর্ধমানের প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই কেন্দ্রকে এই বিষয়টি নিয়ে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুটা বিরক্তির সুরেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন কোন অপরাধে অপরাধী করা হল? জানিনা।” শেষে তিনি বলেন  “কেন্দ্রের অসহযোগিতার জেরে আপাতত বন্ধ থাক বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নাম নথিভুক্তের কাজ।”

বারবার রাজ্য সরকারের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজের টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। এবার এই বিষয়টি এদিনও ফের সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলাশাসকের কাছে তিনি অনুরোধ করেন, পিডব্লিউডি, জলধরো জলভরো-সহ যে সকল প্রকল্পের কাজে বাইরের লোক ব্যবহার করা হয়, সেখানে আপাতত জব কার্ড যাঁদের রয়েছে, তাঁদের নেওয়া হোক

এদিন দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে কৃষকরা যাতে ধান বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পায়, সেদিকেও নজর রাখার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি ঠিকা শ্রমিকদের পে স্লিপ দেওয়ার নির্দেশও দেন। পাশাপাশি, বালির লরির জন্য টোল ট্যাক্সে বেনিয়মের কারণে ই-টেন্ডার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
 সব মিলিয়ে এদিন প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চও যেন হয়ে উঠল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার মঞ্চ। এদিন ফের সিবিআই তলব নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। একের পর এক মামলায় সিবিআই তলবের সম্মুখীন হচ্ছেন শাসকদলের নেতৃত্ব। বাদ যাচ্ছেন না টোটোচালক থেকে, চিকিৎসক, সাংবাদিকরাও।

About Post Author