Home » দেশ ছেড়ে পালিয়ে মালদ্বীপে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি

দেশ ছেড়ে পালিয়ে মালদ্বীপে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি

সময় কলকাতা ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাক্ষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সুত্রের খবর, শ্রীলংকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তনোভ ৩২ সামরিক বিমানে রাষ্ট্রপতি তার স্ত্রী এবং একজন দেহরক্ষী নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মালদ্বীপে। মালদ্বীপে নামার পর সেনাবাহিনী নিরাপত্তায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এক অজ্ঞাত স্থানে। ১৩ ই জুলাই তার রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করার কথা ছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের চাপে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন রাষ্ট্রপতি।

গোটাবায়া রাজাপাক্ষের শ্রীলঙ্কা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব সংবিধান অনুযায়ী ছাড়তে হয়। দেশ ছেড়ে পালানোর আগে গোটাবায়া রাজাপাক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আশ্রয় চেয়ে ভিসার আবেদন করেছিলেন কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই আবেদন অগ্রাহ্য করেছে। সে কারণেই গোটাবায়া রাজাপাক্ষে দেশ ছেড়ে পালিয়ে মালদ্বীপে আশ্রয় নিয়েছেন।

গোটাবায়া রাজাপাক্ষের ভাই বাসিল রাজাপাক্ষে, শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী দেশ ছেড়ে দুবাই পালানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু বিমানবন্দরে তাকে একজন শনাক্ত করায় ইমিগ্রেশন থেকে ভিসা ক্যানসেল করা হয়। এদিকে বিক্ষোভ কারীদের দখলে রয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন। রাষ্ট্রপতি ভবনের মধ্যেই চলছে পিকনিক, তাস খেলা আর ক্যারাম খেলা। একদিকে যখন দেশ চরম আর্থিক অভাবে ভুগছে, গ্যাস অপ্রতুল, জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। সেই পরিস্থিতিতে দেশে দেখা দিয়ে দিচ্ছে সাংবিধানিক সংকট। রাষ্ট্রপতি না থাকার কারণে ,সংবিধান অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যেই।

দেশের সংবাদপত্রের খবর নির্বাচন হতে পারে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন হওয়ার আগে পর্যন্ত কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি দেশ চালাবেন। শ্রীলঙ্কায় এমন পরিস্থিতি এই নিয়ে দ্বিতীয় বার। প্রথমবার ১৯৯৩ সালে এল টিটি ই- দ্বারা রানা সিংহে প্রেমদাসা যখন হত্যা হয়েছিলেন । তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডিঙ্গিরি বান্দারা উইজেতুঙ্গা তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কার সংবিধান অনুসারে যখন রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং পদশূন্য হয়। তখন সাংসদদের মধ্য থেকে একজনকে নতুনরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে হয়।

শ্রীলংকার সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর শ্রীলংকার শান্তি ফেরাতে দায়িত্ব নিতে চলেছেন সে দেশের সংসদের স্পিকার মাহিন্দ্রা আবেবর্ধনে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দেশ চালাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেক্ষেত্রে রনিল বিক্রম সিংহের নাম উঠে আসছে। সোমবার তিনি একাধিক দলের নেতৃত্বদের নিয়ে বৈঠক করেন দেশের বর্তমান হাল ফেরানোর লক্ষ্যে।

অন্যদিকে দেশের বিরোধী দলনেতা সাজিদ প্রেমদাসাও রাষ্ট্রপতি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ডালাশ আল্লাহ পেরুমাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করার কথা জানিয়েছেন সাজিদ প্রেমদাসা। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে উঠে আসছে বহু নাম। শাসক এবং বিরোধী উভয় দলই সংবিধান মেনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার দিনক্ষণ ঘোষণা করবে।

About Post Author