সময় কলকাতা ডেস্ক : বড় রহস্যময় এই প্রকৃতি। কখনো শান্ত কখনো অশান্ত। সভ্যতার অগ্রগতি যত হচ্ছে ততই প্রকৃতি হচ্ছে অশান্ত। শান্ত নীলাভ সমুদ্র কখন যে উত্তাল হয়ে উঠবে, বোঝা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানীদের কাছে। সুন্দর সবুজে ঘেরা পাদদেশ আর স্বেত শুভ্র পাহাড় কখন যে তুষার ধস নিয়ে আসবে তাও বোঝা মুশকিল।
বিজ্ঞানের উন্নতি আর সভ্যতার অগ্রগতির মাঝেই ক্রমশ থাবা বসাচ্ছে দূষণ। সবুজ ধ্বংসের কারণে বায়ুমন্ডলে দেখা দিচ্ছে ছিদ্র। আর যে ছিদ্র প্রাণীকুলের ভাগ্যে নিয়ে আসছে দুর্ভাগ্য। প্রতিনিয়ত বাড়ছে বজ্রাঘাতে মৃতের সংখ্যা। সম্প্রতি সারা বিশ্বজুড়ে অতি বর্ষণের কারণে একাধিক দেশে দেখা দিয়েছে বন্যা। লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন ।মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। বলা যেতে পারে বিপন্ন প্রাণী কুল।

ভারতের ছয়টি রাজ্যে অতি বর্ষণের কারণে বন্যায় ভয়াবহ অবস্থা। রাজস্থান ,গুজরাট ,আসাম, কেরালা, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্রে বন্যা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। শুধুমাত্র আসামে মৃত্যু হয়েছে ১৩৭ জনের। গুজরাটে ৬৩। রাজস্থানেও মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। এদিন মহারাষ্ট্রের সাঁতরার প্রতাপগড়ে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে একজনের।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পাখতুন জেলার করাকপুরে ভয়াবহ বন্যায় ঘরছাড়া ৮০ হাজার মানুষ । বিগত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাকিস্তানের বালুচিস্তানে ভয়াবহ বন্যার কারণে বিপদগ্রস্ত দেড় লক্ষ মানুষ। এখনো পর্যন্ত সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। চলতি বছরের ৪ই জুলাই থেকে প্রবল বর্ষণের কারণে অস্ট্রেলিয়া জুড়ে দেখা দিয়েছিল ভয়াবহ বন্যা। চলতি বছরে তিনবার বন্যার সম্মুখীন হল অস্ট্রেলিয়া সিডনি নিউ ওয়েলস সহ একাধিক শহর বন্যার কারণে বিপর্যস্ত। মালয়েশিয়াতেও চলতি বছরই দেখা দিয়েছিল ভয়াবহ বন্যা। সিয়াচেন সহ বিশ্বের একাধিক পার্বত্য অঞ্চলে লাগাতার ঘটছে তুষার ধস। ভূমিকম্পের কারণে একাধিক দেশের বিভিন্ন শহর রয়েছে বিপর্যস্ত । নেপাল জাপান চীন ইন্দ্রোনেশিয়া সুমাত্রায় ভূমিকম্পের কারণে প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ।বিগত কয়েক বছরে সুনামির কারণে বিপর্যস্ত হয়েছে আমেরিকা, গ্রিনল্যান্ড, জাপান, চীন, ভারত সহ একাধিক দেশ। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে একাধিক পর্বত প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার করে ছোট হচ্ছে অর্থাৎ বরফ গলছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে এই বরফ গলা জলে সমুদ্রের স্তর বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে থেকে যাচ্ছে ভয়াবহ সুনামির আশঙ্কা। ডুবে যেতে পারে বহু ছোট মাঝারি দ্বীপ। বিশ্বের ফুসফুস বলা হয় আমাজনকে। বছরখানেক আগে আমাজন জঙ্গলের এক তৃতীয়াংশ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের সমস্ত জঙ্গলের এক তৃতীয়াংশ রয়েছে এই আমাজনে। আর তার এক তৃতীয়াংশ পোড়াতে বেড়েছে আরো দূষণ। সচেতন নয় মানুষ, সভ্যতার তার অগ্রগতি ঘটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত কাটা হচ্ছে সবুজ। আর যার ফলশ্রুতি প্রকৃতির রোষে পড়ছে প্রাণীকুল।


More Stories
স্পেনের সীমান্তে মরোক্কোর অনুপ্রবেশকারী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুমিছিল অব্যাহত
বিশ্বকাপে ইতালির ট্র্যাজিক নায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি প্রয়াত
নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌ*ন মিলন , গ্রেফতার হাইস্কুল শিক্ষিকা