সময় কলকাতা ডেস্কঃ এমনিতেই পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে অগ্নিমূল্য বাজারদর। তার ওপরে গত দু বছর করোনার দাপটের প্রভাব পড়েছে দেশীয় অর্থনীতিতে। বহু মানুষ বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কালঘাম ছুটে যাওয়ার অবস্থা মধ্যবিত্তের। এবার গোদের অপর বিষ ফোঁড়া। সাধারণ মানুষের ওপর চাপলআরও মুদ্রাস্ফীতির বোঝা। এবার থেকে দেশে কার্যকর হচ্ছে নতুন জিএসটির হার। ফলে আরও দামি হল বহু নিত্য ব্যবহার্য্য দ্রব্যসামগ্রী।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন পণ্যগুলিতে ধার্য হবে ৫ শতাংশ জিএসটি —
দই, পনির, লস্যি, মধু, শুকনো মাখন, শুকনো সয়াবিন, মটর, গম, চাল, মুড়িসহমাছ, ও অন্যান্য খাদ্যশস্য ও-র মতো পণ্যের ওপর এখন ৫ শতাংশ জিএসটি লাগবে।জিএসটির আওতায় আসবে চিড়া, খই, মুড়কি, রাই, বার্লি, ওটসগম এবং মেসলিন ময়দা। এছাড়াও, প্রতিদিন ৫০০০ টাকার ঊর্ধে (আইসিইউ ছাড়া) হাসপাতালের রুম ভাড়ার উপর ৫ শতাংশ জিএসটি ধার্য করা হয়েছে। পুজোর মুখেপর্যটকদের জন্য খুব একটা ভাল খবর নেই।বাড়তে চলেছে প্রতিটি হোটেলের খরচ। প্রতিদিন ১০০০ টাকার কম খরচের হোটেল ঘরের জন্য দিতে হবে ১২ শতাংশ কর। সোলার ওয়াটার হিটারে এখন ১২ শতাংশ জিএসটি লাগবে, যা আগে ছিল ৫ শতাংশ। এছাড়াও সোলার ওয়াটার হিটারগুলিতে এখন ১২ শতাংশ জিএসটি চার্জ দিতে হবে। মানচিত্র, অ্যাটলাস চার্টে ১২ শতাংশ ফি লাগবে। তবে জ্বালানি খরচ কিছুটা হলেও কম করা হয়েছে। জ্বালানিসহ পণ্য পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক, যানবাহনে এখনজিএসটি ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশে করা হয়েছে।এ ছাড়াও ডাবের জলের ওপর ১২ শতাংশ জিএসটি ধার্য হয়েছে।জুতোর কাঁচামালের উপর দিতে হবে ১২ শতাংশ হারে নতুন কর।

এবার দেখে নেওয়া যাক কোন কোন ক্ষেত্রে১৮ শতাংশ জিএসটি লাগু হলঃ
প্যাকেজ পণ্যের উপরও ১৮ শতাংশ জিএসটি ধার্য করা হয়েছে। প্যাকেটজাত যে কোনও খাবারের উপরে বসছে জিএসটি। দ্রব্য উৎপাদককোম্পানির লেবেল-সহ বিক্রির ওপরওজিএসটি দিতে হবে। এছাড়াও কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ শতাংশ জিএসটি বসছেইস্যু করা ব্যাঙ্কের চেকের উপর। রাস্তা, সেতু, রেলপথ, মেট্রো রেল, বর্জ্য শোধনাগার এমনকি শ্মশানের কাজের চুক্তিতেওএখন ১৮ শতাংশ জিএসটি লাগু হয়েছে। যা আগেছিল ১২ শতাংশ। এ ছাড়াও,আঁকার কালি, প্রিন্টিং, ধারালো ছুরি, কাগজ কাটার ছুরি ও পেন্সিল শার্পনার, এলইডি ল্যাম্প, আঁকার ও মার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি লাগু করা হয়েছে।
যদিও কেন্দ্রের চাপানো এই নতুন করের বোঝা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলিও। একই ইস্যুতে প্রতিবাদে সরব হল বিরোধীরা, মঙ্গলবারও উত্তাল হল সংসদের দুই কক্ষ। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সংসদ চত্বরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসেন কংগ্রেস সাংসদরা।একদিকে যখন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে পড়েছে ভারতীয় টাকার দাম। যার ফল স্বরূপ দাম বাড়তে পারে পেট্রোল ডিজেল থেকে শুরু করে অন্যান্য জ্বালানির মূল্যও।অতএব এই জ্বালানির দামের বৃদ্ধিতে বাড়বে নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যের মূল্যও। এমনটাই অভিমত বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদদের। অতএব দেশের সাধারণ মানুষ এই নতুন করের বোঝা বইতে গিয়ে কি ভাবে বেচে বর্তে থাকবে সেই নিয়েই সিঁদুরে মেঘ দেখছে। তাদের আশঙ্কা, তবে কি আবার দেশে নেমে আসতে চলেছে ৪৭ সের কালো মেঘের ছায়া।।


More Stories
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!