সময় কলকাতা ডেস্কঃ মৃত শিশু বেঁচে উঠতে পারে। এই আশায় দুই বছরের শিশুকে ১৮ ঘন্টা অন্ধকার ঘরের মধ্যে ফেলে রাখা হল। জানা গিয়েছে মণ্ডলীর দীক্ষাগুরুর মিথ্যা বিধানের আদেশই পালন করেছিল শিশুর মা বাবা।
গ্রামের নাম রাক্ষসখালি। গ্রামটাই যেন গিলে খেল আস্ত একটা দুধের শিশুকে। বুধবার বিকেলেই ওই গ্রামেরই একটি পুকুরেই ডুবে মৃত্যু হয় বছর দুইয়ের গৌরব মাইতির। স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এরপরই বাড়িতে আগমন হয় মন্ডলীর দীক্ষাগুরু তথা ধর্মীয় কর্তাব্যক্তির। তাঁরই দেওয়া নিদান মেনে, অন্ধকার ঘরের মধ্যে শিশুটির দেহ রেখে ধুপধুনো ফুল দিয়ে প্রার্থনার প্রক্রিয়া চলে। বুধবার বিকেল থেকে প্রায় রাত্রি ৮.৩০ পর্যন্ত চলে সেই পুজো। সেই ঘরে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল সারারাত।
পরের দিন সকালে মা বাবা নিদান মত শিশুর ডাক না পাওয়ায় স্থানীয়রাই জোর করে দরজা খুলে ফেলেন। উদ্ধার হয় শিশুর নশ্বর দেহ,যা খুবলে খেয়েছে পিঁপড়েরা। খবর শুনে এলাকার মানুষরাই ক্ষুব্ধ হয়ে ধর্মীয় কর্তাব্যক্তির বাড়িতে হানা দেয়। জানা যায় ওই ব্যক্তি আসলে পেশায় রাজমিস্ত্রি। স্থানীয়দের দাবি, এইভাবেই ধর্মের নামে কার্যত জীবন নিয়ে খেলা চলছে।

যদিও ধর্মীয় দীক্ষাগুরুদের দাবি, বাড়ির সদস্যরাই নাকি মণ্ডলীতে গিয়ে প্রার্থনার আবেদন করার আর্জি জানাতে গিয়েছিলেন। গোটা ঘটনাটি স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যকে জাননো হলে তিনি পাথরপ্রতিমা থানায় খবর পাঠান। শেষ পর্যন্ত গ্রামের মানুষ এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মতিলাল মাইতির পরামর্শ মেনে ধর্মীয় মতে কবর দেওয়া হয় শিশুকে। গোটা ঘটনায় ফুঁসছেন এলাকাবাসী। পুলিস জানিয়েছে, বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু এতে কি ফিরে আসবে ছোট্ট গৌরব? এভাবে কতদিন কুসংস্কারের মিথ্যে অনুশীলনের শিকার হবেন সাধারণ মানুষ? উত্তরগুলো জানা নেই কারোর।


More Stories
দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আয়ুষ্মান কার্ড এখন হাতের মুঠোয়
আমডাঙায় ফুড প্লাজা ভাঙচুর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে
চুরমার বারাসাতের তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিকের বাড়ি ও পার্টি অফিস, মেরে ফেলা হতে পারে আশঙ্কা স্ত্রীর