Home » মন্ত্রিত্ব কি ছাড়তে পারেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়?

মন্ত্রিত্ব কি ছাড়তে পারেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়?

সময় কলকাতা ডেস্ক: পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বঙ্গ রাজনীতির অন্দরমহলে বহুল চর্চিত একটি নাম। আপাত নিরীহ মানুষ, কখনো বাকবিতন্ডায় জড়াননি তিনি। অথচ দুর্নীতির জটিল আবর্তে জড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। কি হবে পার্থর ভবিষ্যৎ?

হাজারো প্রশ্নের গোলক ধাঁধায় বিভ্রান্ত জনগণ। ২২শে জুলাই ভোর থেকে ১৩ টি জায়গায় তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টর। উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য ।২৮ ঘন্টা জেরার পর গ্রেফতার করা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে, তারপরেই গ্রেফতার হয় অর্পিতা মুখার্জি। একদা শিক্ষা মন্ত্রী পরে শিল্পমন্ত্রী, পরিষদীয় মন্ত্রী এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রীর পদে আসীন হয়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় । আপাত নিরীহ মানুষ, কথা কম বলেন ,গাম্ভীর্য ভাব মূর্তি নিয়ে চলা পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে দুর্নীতির কালো পাঁকে জড়িয়ে যাবেন তা ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারিনি বহু মানুষ। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়া এবং অর্পিতা মুখার্জির বাড়ি থেকে উদ্ধার ২১ কোটির অধিক টাকা উদ্ধারের পর রাজ্যের মানুষের কাছে এটা পরিষ্কার দুর্নীতির পাকে গলা পর্যন্ত ডুবে গিয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়। একাধিক বান্ধবী থাকা নিয়েও সামাজিক প্রচার মাধ্যমে ট্রোলের বন্যা।

সবকিছু মিলিয়েই জনগণের সামনে কাঠগড়ায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার অর্পিতা এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ই এস আই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। অন্যদিকে বুধবারেই প্রাথমিক শিক্ষা পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকেও জেরা করেন ইডি। মানিক ভট্টাচার্য এবং অর্পিতা মুখার্জির মুখোমুখি বসিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জেরা করার সম্ভাবনা উঠে আসছে। অন্যদিকে বারাসাতের বস্ত্র বিপনী সংস্থার মাধ্যমে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের টাকা বিদেশে পাচার হতো সে সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে ইডি। অর্পিতা মুখার্জির নামে মোট সাতটি দলিল পাওয়া গিয়েছে যাতে ইচ্ছে এন্টারটেইনমেন্টের নামে পাঁচখানা দলিল। এত বিপুল বৈভবের মালিক হলো কিভাবে অর্পিতা মুখার্জি। তাহলে কি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ছত্রছায়াতেই বেড়ে ওঠা এই দুর্নীতির বৃক্ষ। ইতিমধ্যে দিল্লির থেকে ইডির আধিকারিকরা আসছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জেলা করতে। পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য। শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে নেতাদের হাসপাতালে ভর্তির যে সম্ভাবনা ,সে সম্ভাবনাও ভুবনেশ্বর থেকে চিকিৎসা করিয়ে নিয়ে আসার পর অনেকটাই অস্তমিত। এদিকে তৃণমূলও অস্বস্তিতে পড়ে রয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে।

এখনো পর্যন্ত তার মন্ত্রিত্ব, মহাসচিব -এর পদ রয়েছে বহাল। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপ। অন্যদিকে তৃণমূলের মুখপাত্র জাগো বাংলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রিত্ব বা দলীয় পদের উল্লেখ না করে শুধুমাত্র পার্থ চট্টোপাধ্যায় লেখা হচ্ছে। অর্থাৎ দলের সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে অনেকটাই দূরত্ব তৈরি হয়েছে, জাগো বাংলার লেখায় সেটা স্পষ্ট। পরিশোধীয় মন্ত্রী হিসেবে যে গাড়ি পার্থ চট্টোপাধ্যায় পেতেন সেই গাড়ি ইতিমধ্যেই ফেরত দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পাঞ্জাব দখলের পর এক আপ মন্ত্রীর দুর্নীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিয়াল। সে দৃষ্টান্তই কি রাখবে তৃণমূল এ প্রশ্নও ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে জনগণের মুখে মুখে। তবে বুধবার ইএসআই হাসপাতাল এ ঢোকার মুখে সাংবাদিকরা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিল তাহলে কি মন্ত্রিত্ব ছাড়ছেন , প্রশ্নের উত্তরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন কারণ কি? রাজনৈতিক মহলের মতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজে মন্ত্রিত্ব বা মহাসচিব এর পদ একেবারেই ছাড়তে নারাজ। এদিকে ইডির তদন্ত সহযোগিতা করছেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায় এমনটাই সূত্রের খবর। একদিকে ইডির তদন্তে সহযোগিতা না করে দলের প্রতি আস্থা রাখার চেষ্টা করছেন পার্থ। আর অন্যদিকে মরিয়া ভাবে নিজের মন্ত্রিত্ব এবং মহাসচিব এর পদ আঁকড়ে ধরে রাখারও চেষ্টা করছেন পার্থ। এক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে পার্থ প্রসঙ্গ উপস্থাপিত হয় কিনা? অথবা দল পার্থর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয় কিনা এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

About Post Author