সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাজ্যে নতুন আরও ৭ জেলার নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোট জেলার সংখ্যা বেড়ে হল ৩০। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাড়তি সুবিধা এবং উন্নতমানের পরিষেবা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়টি কার্যকরী হতে ৬ মাস সময় লাগতে চলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার নবান্নের সভাঘর থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠকে জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ভেঙে সুন্দরবন, উত্তর ২৪ পরগনা ভেঙে ইছামতী, বসিরহাট, নদিয়া ভেঙে রানাঘাট, বাঁকুড়া ভেঙে বিষ্ণুপুর, বহরমপুর সদর ভেঙে বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ ভেঙে জঙ্গিপুর এবং কান্দি জেলা তৈরি করা হবে।
পাশাপাশি এই বৈঠকে তিনি আরও জানিয়েছে, পরিকল্পনা মাফিক কিছুই হচ্ছে না। যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে এই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দৃপ্ত কন্ঠে ঘোষণা, প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাধন পাণ্ডের মৃত্যু এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলে থাকার কারণে তাঁদের সংশ্লিষ্ট দফরগুলির দায়িত্ববন্টন নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় ৫ থেকে ৬ জন নতুন করে যোগদান করবেন, সেই সম্ভাবনাও এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অপসারণের পর থেকেই মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে জল্পনা চলছিল। কে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দফতরের দায়িত্ব নেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বাকবিতন্ডার শেষ নেই। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ৪-৫ জনকে দলের কাজে নিয়োজিত করা হবে, অন্য ৪-৫ জনকে মন্ত্রিসভায় আনা হবে। কারা নতুন করে দায়িত্ব নেবেন এবং কাদের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হবে, তা নিয়েই শাসক শিবিরের অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, এই মন্ত্রিসভায় জায়গা হতে পারে বালিগঞ্জের বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয়, প্রবীণ বিধায়ক তাপস রায় এবং উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক। তবে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী রিশাফল করে বুধবার কাদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেন, এখন সেইদিকেই তাকিয়ে বঙ্গ রাজনীতি।

অন্যদিকে এই একইদিনে রদবদল হয়েছে তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান পদগুলিতেও। বারাসাতের সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী হিসেবে নাম রয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। বনগাঁয় গোপাল শেঠের দায়িত্ব পেলেন বিশ্বজিৎ দাস। শ্রীরামপুরে স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বদলে জেলা সভাপতির পদে আসীন হলেন অরিন্দম গুঁই। অন্যদিকে ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল পার্থ ভৌমিককে। নতুন সভাপতির নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। কোচবিহারে জেলা সভাপতি পদে পার্থপ্রতিম রায়ের বদলে দায়িত্ব নিলেন অভিজিৎ দে ভৌমিক। দক্ষিণ দিনাজপুরের নতুন জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার। শাসকশিবিরের এই রদবদল থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, পার্থকাণ্ডের জেরে যে ড্যামেজের মুখোমুখি হয়েছে দল, সেই কালিমা মুছতে উঠে পড়ে লেগেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা।


More Stories
সমস্ত পুরসভার সব ধরনের পেমেন্ট স্থগিত
অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজত :শুভেন্দুর পিএ চন্দ্রনাথ খু*নে কারা গ্রেফতার, কোথায় গ্রেফতার? যোগসূত্র কী?
বন্ধ হচ্ছে না কোনও চালু প্রকল্প, আর কী জানালেন শুভেন্দু