সময় কলকাতা ডেস্কঃ গরুপাচার মামলায় আপাতত নিজাম প্যালেসেই বন্দি থাকছেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু তাঁকে দফায় দফায় জেরা করা যেমন জারি রয়েছে, তেমনই তাঁর দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের কাছ থেকেও মিলেছে বেশ কিছু তথ্য। সেই তথ্যসূত্রের হাত ধরেই এবার রাজ্যের আটটি বেসরকারি কলেজে হানা দিতে পারেন ইডির আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে জেরা করে জানা গিয়েছে, গরু পাচারের টাকা লগ্নি করা হত রাজ্যের তিন জেলার ওই আটটি বিএড কলেজে। এই তথ্যের সত্যতা কতটা এবং সত্যিই অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে ওই বিএড কলেজগুলির যোগাযোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন সিবিআই এবং ইডির আধিকারিকরা।

সিবিআইয়ের দাবি, অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে জেরা করেই এই তথ্য উঠে এসেছে। এবিষয়ে ইতিমধ্যে খোঁজখবর শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও। কলেজগুলির সঙ্গে বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কোনও সংস্রব আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দুই তদন্তকারী সংস্থাই।

সূত্রের খবর, শেষ চার-পাঁচ বছরে বীরভূম, বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমানে তৈরি হওয়া বেশ কিছু ঝাঁ চকচকে বিএড কলেজ ইডি এবং সিবিআইয়ের নজরে রয়েছে। এই কলেজগুলি তৈরির জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, সেই অর্থের উৎস অনুসন্ধান করতে শুরু করেছে দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল। এর মধ্যে মোট আটটি কলেজ নির্মাণের টাকায় ‘উৎস’এ গোলমাল পাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
শুরু হয় সেই সমস্ত কলেজগুলির নথি সংগ্রহের কাজ। নথি খতিয়ে দেখতেই একটি ট্রাস্টের হদিশ মেলে, যে ট্রাস্ট ওই কলেজগুলি শুরু হওয়ার আগে তৈরি করা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি কোম্পানি ঘুরে সেই ট্রাস্টে যাবতীয় টাকা ঢুকেছে। যে সমস্ত কোম্পানি থেকে টাকা আসত, সেই সমস্ত কোম্পানির তালিকায় সায়গল হোসেনের কোম্পানির নামও পাওয়া গিয়েছে, এমনটাই সিবিআইয়ের দাবি। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, এই বিপুল পরিমাণ টাকা আসলে গরুপাচারের কালো টাকার লভ্যাংশ, যা পরে বিএড কলেজ তৈরি করার হাত ধরে সাদা টাকায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই কোম্পানি, ট্রাস্ট এবং কলেজগুলির বিষয়ে সায়গল হোসেনকে একপ্রস্থ জেরাও করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
তৃণমূল ও সিপিএম প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর শপথবাক্য ও মন্ত্রগুপ্তি