স্বর্ণালী তালুকদার, সময় কলকাতা: হোশ না খো দে কহি, জোশ মে দেখনেওয়ালা! কোয়েলা সিনেমার এই বিখ্যাত গানের দৃশ্যে শাহরুখ খানের হয়ে যিনি গানটি গেয়েছিলেন (সিনেমার চিত্রনাট্য অনুযায়ী), সেই জনি লিভার তথা বলিউডের কমেডি কিংয়ের কিছু অজানা গল্প রইল। সেই বিখ্যাত গানের দৃশ্যে কিং খানের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে এতটাই সাবলীলভাবে নেচেছিলেন তিনি, উপস্থিত কলাকুশলীরা রীতিমত চমকে গিয়েছিলেন। খোদ শাহরুখ খান তাঁর গুনমুগ্ধ দর্শক ছিলেন। তাই তো বাজিগর, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, বাদশাহ-র মত সিনেমা তো বটেই, হালের দিলওয়ালে সিনেমাতেও এই জুটিকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। দর্শকদের ভীষণ প্রিয় এই জুটির বেশিরভাগ লাইমলাইট টা জনি লিভারই পেয়েছেন, যখন দুই তারকার কমিক টাইমিং নিয়ে চর্চা হয়েছে।
১৯৮৪ সাল থেকে জনি লিভারের ফিল্মি কেরিয়ার শুরু। দর্দ কা রিস্তা সিনেমাতে একজন অভিনেতা হিসেবে সিলভার স্ক্রিনে পা রাখেন তিনি। তার আগে তিনি কিন্তু জনি লিভার ছিলেন না। তাঁর আসল নাম জন প্রকাশ রাও জানুমালা। ১৪ অগাস্ট, অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের একদিন আগে অন্ধ্রপ্রদেশের কানিগিরিতে জন্ম হয়েছিল কমেডি কিংয়ের। দুই ভাই এবং তিন বোনের সঙ্গে মুম্বইয়ের ধারাভি বস্তিতে জন প্রকাশ রাওয়ের ছোটবেলার দিনগুলো কেটেছে। সেই বস্তি থেকেই শিখেছিলেন মিমিক্রি করা। রাস্তায় পেন বিক্রি করতেন বলিউডের বিখ্যাত অভিনেতাদের গলার, আদপ কায়দা নকল করে। সপ্তম শ্রেণির গণ্ডি পেরোতে না পারায় এইভাবেই পেট চালানোর পথ বেছে নিয়েছিলেন আজকের কমেডি কিং।

এই মিমিক্রিই যে ধীরে ধীরে ধারাভির বস্তির ছেলেটার জীবন বদলে দেবে, তা বোধহয় কল্পনারও অতীত ছিল। কিন্ত হিন্দুস্থান ইউনিলিভার কোম্পানিতে কর্মরত থাকাকালীন একটি অনুষ্ঠানে কলাকুশলীদের নকল করে দেখিয়েছিলেন জন প্রকাশ রাও। সেই অনুষ্ঠান থেকে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন তিনি। ধীরে ধীরে স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হিসেবে নিজেকে ঘষা মাজা শুরু করেন জনি লিভার। কোম্পানির নামের শেষ তিনটি অক্ষরের সঙ্গে নিজের নামের প্রথম ভাগটুকু রেখে এক নতুন পরিচয়ে এগোতে থাকলেন তিনি। স্থানীয় জলসাতে ডাক পেতে শুরু করলেন তিনি। মঞ্চ ভাগ করে নিলেন সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গেও। এরপরই পরিচালক তথা অভিনেতা সুনীল দত্তের সঙ্গে এমনই এক অনুষ্ঠানে দেখা হয় জনি লিভারের। শুরু হয় তাঁর বলিউড সফর। নানারকম মুডে কমেডি কিংকে দর্শকরা পর্দায় দেখতে পেলেও প্রথম সর্বতভাবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন বাজিগরের বাবুলাল চরিত্রে অভিনয় করে। এরপর কখনও শাহরুখ খান, আবার কখনও গোবিন্দ বা আবার কখনও কমেডি মায়েস্ট্রো কাদের খানের সঙ্গে ফ্রেম শেয়ার করে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে চলেছেন। তাঁর ছেলে জেস এবং মেয়ে জেরমি দুজনেই বাবার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া বেশ জনপ্রিয়। নাচে গানে, ট্রেন্ডি রিলসে সব সময় দর্শকদের মাতিয়ে রাখছেন তাঁরা। জনি লিভারের পুত্র সন্তান প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন, কিন্তু সেই কথা কখনই দর্শকরা টের পাননি। দাঁতে দাঁত চেপে জীবনের দুঃখ কষ্টকে পাশে সরিয়ে সে দর্শকদের হাসিয়ে চলেছেন অনর্গল।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও
দানবীর রাজপাল যাদব কার কাছে ধার নিয়ে শোধ না দিতে পেরে জেলে? কবে ছাড়া পেতে পারেন রাজপাল?