সময় কলকাতা ডেস্কঃ “আগামী ছয় মাসের মধ্যে সামনে আসবে নতুন তৃণমূল, ঠিক যেমন মানুষটা চায়” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছবিসহ এই বাক্য লেখা পোস্টার পড়লো খাস কলকাতায়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা নতুন তৃণমূল বলতে কি? কারা লাগালো এই পোস্টার? এই প্রশ্নের মাঝেই, ছয় মাসের মধ্যে নতুন তৃণমূল নিয়ে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
নতুন তৃণমূল? প্রশ্ন উঠতেই পারে সেটা আবার কি? ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন বাম -কংগ্রেস থেকে আগত বহুনেতা। তখন থেকেই শুরু হয়েছিল নব্য তৃণমূল -আদি তৃণমূলের দ্বন্দ্ব। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বহু তৃণমূল নেতা ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরের নাম লিখিয়েছিলেন। তৎকালীন সময় তাদের বক্তব্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেসে সম্মান পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের পর দল বদলে সেই নেতারা একে একে ফিরে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। গেরুয়া শিবিরে রয়ে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর মতন বেশ কিছু নেতা। এরই মাঝে চলতি বছরের ২১শে জুলাই এর পর, ২২ শে জুলাই ভোরবেলা থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। ইডি এবং সিবিআই- এর জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়ে জেল মুখি হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই হেভি ওয়েট নেতা। পার্থ- অনুব্রতর জেল প্রাপ্তির পর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরেই আওয়াজ উঠেছে শুদ্ধিকরণের। একদা তৃণমূলের মহাসচিব প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দুর্নীতির কারণে হারিয়েছেন দলীয় পদ।

অন্যদিকে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল গরু পাচার কাণ্ডে জেলে গেলেও তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্নীতি প্রসঙ্গে শাসক দল কিছুটা অস্বস্তিতে থাকার মাঝেই বিরোধী বিজেপি ,বাম, কংগ্রেসের একাধিক নেতাই মাঝে মাঝে দিচ্ছেন হুংকার। অর্থাৎ বলতে গেলে এক কথায় দুর্নীতি প্রসঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাবরণ অনেকটাই উত্তপ্ত। এসবের মাঝেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ত্রাতা হয়ে উঠে এসেছেন তৃণমূলের যুবরাজ বলে খ্যাত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসএসসি চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভে যখন শহর উত্তাল, তৃণমূলের একাধিক নেতৃত্ব মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। ঠিক সেই সময় বুক চিতিয়ে দলকে আগলে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ এর বিধানসভা নির্বাচনের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ নেতাদের পিছনে ফেলে সামনের সারিতে উঠে এসেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা ঘনিষ্ঠ পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডল এর গ্রেপ্তারিতে জেলার রাজনীতির রাস্তায় অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন অভিষেক ঘনিষ্ঠ নেতারা।
এবার হাজরা, কালীঘাট গড়িয়াহাট সহ দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় লাগানো একটি পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সূত্রের খবর অভিষেক ঘনিষ্ঠ নেতা শ্রীকুমার সাহার দুই সংগঠন আশ্রিতা ও কলরব দ্বারা প্রচারিত এই পোস্টারে লেখা রয়েছে” ছয় মাসের মধ্যে আসছে নতুন তৃণমূল ঠিক যেমনটা মানুষ চায়”। আর এই পোস্টার ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। কারা লাগালো এই পোস্টার আর কেনই বা লাগালো? নতুন তৃণমূল বলতে কি? ঠিক যেমনটা চায় মানুষ? মানে? তাহলে কি আগের তৃণমূলকে মানুষ চাইছে না , তাই কি নতুন তৃণমূলের অবতারণা?এ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের মনে। এরই মাঝে নতুন তৃণমূল নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ডেড লাইন বেঁধে দিয়েছেন চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস। শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবির বাস্তবতা কতখানি আছে সে তো সময় বলবে। তবে নতুন তৃণমূল প্রসঙ্গে মুখ খুলতে রাজি নয় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা। নেতারা মুখ না খুললেও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নতুন তৃণমূল কি? তাহলে কি, আগামী দিনে রাজ্যে প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে অভিষেক রাজ? এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতির অন্দরমহলে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?