Home » মুখ্যমন্ত্রীর পুজো কমিটিকে অনুদান নিয়ে চমক : একটি সমীক্ষা

মুখ্যমন্ত্রীর পুজো কমিটিকে অনুদান নিয়ে চমক : একটি সমীক্ষা

সময় কলকাতা ডেস্ক : মুখ্যমন্ত্রী কি আস্তিনের টেক্কা ছাড়লেন পুজো বৈঠকে? সোমবার পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের নিয়ে পুজোর বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন ষাট হাজারের তাস ছাড়লেন তিনি। কিস্তিমাত হবে নাকি বুমেরাং? রাজনৈতিক চাপানউতোর জারি, জারি চৰ্চা।

সোমবার বিকেলে নেতাজি ইনডোর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ঘোষণা করতে চলেছেন, সেদিকেই তাকিয়ে ছিল বাংলার মানুষ। তবে, বারবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ উঠে আসায় অনেকেই ভেবেছিলেন এবারও ওই ৫০ হাজার টাকা করেই দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে দেবে রাজ্য সরকার। কিন্তু, এই পরিস্থিতিতে ফের নয়া চমক দিয়েছেন দিদি। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এবছর ৬০ হাজার টাকা করে পাবে পুজো কমিটিগুলি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,এবারের দুর্গাপুজো ছাড় দেওয়া হবে বিদ্যুৎ বিলে। বিদ্যুৎ বিলে ছাড় দেওয়ার জন্য সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের কাছে অনুরোধ করা হবে। এদিনের এই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো তুঙ্গে।

সোমবারের বৈঠকে বিজেপিকে বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি বলেন, ‘অনেকে বড় বড় কথা বলেন। কলকাতায় দু্র্গা পুজো হয় না। সরস্বতী পুজো হয় না। আমি বলছি, এমন পুজো কোথাও হয় না। এখানে এক বছর ধরে পরিকল্পনা হয়। কে স্বেচ্ছাসেবী হবেন, কে ফল কাটবেন সে সব পরিকল্পনা করে রাখা হয়। এখন কলকাতায় থিমের পুজো হয়। কোন ক্লাব কাকে দিয়ে পুজো করাবে, সে সব নিয়েও এক বছর ধরে পরিকল্পনা চলে’। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজ্যে ৪৩ হাজার পুজো কমিটির নাম নথিভুক্ত রয়েছে। তা ছাড়াও রয়েছে বাড়ির পুজো সহ একাধিক পল্লীর পুজো। আজকাল মেয়েদের উদ্যোগেও ভালো পুজো হয়। পুলিশ এবং বড় ক্লাবগুলির কাছে আমি গ্রেটফুল। তারা মহিলাদের ও ছোট ক্লাবগুলিকে সাহায্য করে।

এই দুর্মূল্যের বাজারে এই অনুদান কেন? তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ক্লাবগুলিকে হাতে রাখার জন্য রাজ্য সরকার এভাবে বিপুল টাকা খরচ করে বলেও অতীতে অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুদান শুধুই অনুদান হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পুজোর অনুদান ঘোষণা প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘ ওপর থেকে একটু ঢিলে হলেই বাঙালি দুর্নীতির কথা ভুলে যাবে। লীলা-মেলা-খেলা করেই বাঙালিকে ভুলিয়ে রাখতে হবে।’

About Post Author